

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বিদ্যুৎ সরবরাহের বেহাল দশায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় গ্রাহকেরা। ঘনঘন লোডশেডিং, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং নানা অজুহাতে সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন চলে যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দিনের পাশাপাশি রাতেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কখনো স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলেও আবার চলে যাচ্ছে। এতে তীব্র গরমে দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের।
বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনভিত্তিক কাজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জরুরি কার্যক্রমে তৈরি হচ্ছে জটিলতা। বিকল্প হিসেবে আইপিএস, ব্যাটারি কিংবা জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে বাড়তি খরচও গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ না থাকার কারণ জানতে চাইলে চন্দনাইশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা প্রায়ই ৩৩ কেভি অর্থাৎ প্রধান বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে মেরামত বা সংস্কারকাজ চলার কথা জানিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের ব্যাখ্যা শুনতে শুনতে গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ ও প্রশ্ন।
গ্রাহকদের প্রশ্ন, ৩৩ কেভি লাইনে যদি নিয়মিত মেরামতকাজের প্রয়োজনই হয়, তাহলে এর স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না কেন? আর মেরামতকাজ চললে এর সময়সূচি ও কতক্ষণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে—তা গ্রাহকদের আগাম জানানো হচ্ছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
এ বিষয়ে চন্দনাইশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খন্দকার মোহাম্মদ আযম বলেন, চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ না পাওয়ায় আমরা গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না আবার কখনো বলেন দোহাজারী উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভিতে মেরামতের কাজ চলতেছে।
ডিজিএমের বক্তব্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্ট হলেও গ্রাহকদের প্রশ্ন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে কোন এলাকায় কতক্ষণ লোডশেডিং হবে, তার স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা কেন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
একদিকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার কথা বলছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে ৩৩ কেভি মেইন লাইনে মেরামতকাজের কথাও প্রায়ই বলা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত সংকট কোথায়—বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি, নাকি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে গ্রাহকদের মধ্যে।
নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাহক খাঁনহাট চৌধুরী মার্কেটের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আজম চৌধুরী । তার দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত কারণ জনসম্মুখে তুলে ধরে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের বাস্তব চিত্র ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
চন্দনাইশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

