

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ২ নং ইউনিয়নের বারৈয়ার ঢালা এলাকার বহরপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০টি পরিবারের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে মোবাইল চার্জে থাকা একটি ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাটারি বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একের পর এক ঘর আগুনে পুড়ে যায়। আগুনের ভয়াবহতায় ঘরের ভেতর থাকা আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় মালামাল ও বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সংসার মুহূর্তেই ছাই হয়ে যায়।
ঘরের সদস্যরা কোনো রকমে প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও নিজেদের চোখের সামনে তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্নের ঘরবাড়ি আগুনে ধ্বংস হতে দেখেন। এতে পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে শোক ও হতাশার ছায়া।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত তৎপরতায় আশপাশের আরও বেশ কিছু বসতঘর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায়।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য প্রতিবেশী, গ্রামবাসী, আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ, আত্মীয়-স্বজন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আগুন নেভানো ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জিনিসপত্র রক্ষায় সহায়তা করেন।
এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০টি পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা ৫০ জনেরও বেশি।
বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই এক কাপড়েই ঘর থেকে বের হতে পেরেছেন বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডে যাদের বসতঘর ও রান্নাঘর পুড়ে গেছে তারা হলেন-নয়ন দাশ (পিতা: মৃত অনিল দাশ), আশু রানী দাশ (স্বামী: মৃত সাধন দাশ), জীবন দাশ (পিতা: মৃত শংকর দাশ), স্বপন দাশ (পিতা: মৃত মনোরঞ্জন দাশ), দিলীপ দাশ (পিতা: মৃত মনোরঞ্জন দাশ), মন্টু দাশ (পিতা: মৃত মনোরঞ্জন দাশ), লক্ষ্মণ দাশ (পিতা: মৃত মনোরঞ্জন দাশ), কেশব দাশ (পিতা: মৃত রুহিনী দাশ), ক্ষুদিরাম দাশ (পিতা: মৃত জগবন্ধু দাশ), নেপাল দাশের বসতঘর এবং কানু দাশের রান্নাঘর।
এদিকে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বহরপুর গ্রামবাসীর উদ্যোগে একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। মানবিক সহায়তা হিসেবে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন