

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় এক রাতের কালবৈশাখী ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিতে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে কৃষকের।
উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক সোলায়মান (সলু) এর প্রায় ৫০০ শতক জমির আলু পানিতে পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পথে বসার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, মরহুম বাদশা মিয়ার ছেলে সোলায়মান চলতি মৌসুমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে তার জমিতে বাম্পার ফলনের আশা তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে জমিতে পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের সুযোগ না থাকায় কয়েক দিনের মধ্যেই পুরো ক্ষেতের আলু পচে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সোলায়মান বলেন, গত বছরও আলু চাষ করে বড় লোকসান হয়েছিল। এবার ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করি। ফলন ভালো হয়েছিল। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমি একেবারে পথে বসে গেছি। পাওনাদারের টাকা দিতে পারছি না, কিস্তিও বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে আমার আকুল আবেদন আমাকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে বাঁচার সুযোগ করে দেওয়া হোক।
স্থানীয়রা জানান, আকস্মিক এই দুর্যোগে শুধু সোলায়মানই নন, আশপাশের আরও কয়েকজন কৃষকের ক্ষেতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন অনেকেই। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩টি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়নে ব্যাপক পরিসরে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১,৯০৭ হেক্টর এবং মতলব উত্তর উপজেলায় ৫৯৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২৮ টন।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। সরকারি প্রণোদনা বা সহায়তা থাকলে তা দ্রুত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন