শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩১৭ কোটি ডলার

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি
expand
চট্টগ্রাম বন্দর। ফাইল ছবি

ফেব্রুয়ারির এক মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩১৭ কোটি ডলার। দেশের সার্বিক বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার এসে দাঁড়িয়েছে।

চলতি বছরের প্রথম ৮ মাস শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪০ কোটি বা ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। মূলত রপ্তানি কমে যাওয়া ও রোজার পণ্য আমদানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি শেষে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য ঘাটতির যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে গত ফেব্রুয়ারি শেষে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। আগের মাস জানুয়ারি থেকে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি মাসে সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

এই সময়ে রপ্তানি কমে গেলেও নির্বাচন ‍ও রোজা উপলক্ষ্যে রেমিটেন্সের পালে হাওয়া লেগে যায়। তার ফলেই বৈদেশিক বাণিজ্যর কয়েকটি সূচকের মধ্যে আর্থিক হিসাব, সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য হিসাবে উদ্বৃত্ব হয়।

অন্যদিকে চলতি হিসাবের ঘাটতির পরিমাণও কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, যদিও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের সার্বিক বাণিজ্য ভারসাম্য(অভরঅল ব্যালেন্স) এই সময়ে উদ্বৃত্ব হয়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।

একইভাবে আর্থিক হিসাবে উদ্দৃত্ব বেড়ে হয় ৪ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের ৮ মাসে ছিল ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

অবশ্য চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ আরো বেড়ে হয় ঋণাত্বক ১০ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের ৮ মাসে ছিল ঋণাত্বক ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

পরিবহন, ভ্রমণ, সরকারি-বেসরকারি বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য অর্থপ্রদান ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেবা খাতের ঘাটতি বেড়ে ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আগের বছরের এই সময়ে যা ছিল ৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার। এতে এক বছরে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

রোজার মাসে বাংলাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে গিয়ে বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দিতে সহযোগিতা করেছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ না হলে ঘাটতি আরো বেড়ে যেতো বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের(বিআইবিএম) মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এনপিবি নিউজকে বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি কমেছে এই সময়ে। যুদ্ধ তো তখনো শুরু হয়নি। যুদ্ধের জন্য আমদানি খরচ যেভাবে বাড়ছে, তার প্রভাব মার্চের হিসাবে আসবে। তাতে বাণিজ্য ঘাটতি আরো বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, কারণ হলো আমাদের রপ্তানি তো বাড়েনি।’

যুদ্ধ বিরতি থাকলে মার্চে করা এলসি (ঋণপত্র) এর পরিশোধ এপ্রিলে এসে ঠেকবে। এপ্রিল শেষে রপ্তানি আয় আশাব্যঞ্জক না হলে চলতি মাস শেষে বাণিজ্য ঘাটতিকে আরো চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে আমদানি হয় ৪৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে গত ৮ মাসে রপ্তানি হয় ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের এই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয় ঋণাত্বক ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৮ মাসে রপ্তানি হয় ৩০ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানি দায় পরিশোধ করতে হয় ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার বেশি।

এ বাণিজ্য ঘাটতি পূরণ করতে এগিয়ে আসে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক ঋণ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স আসে ২২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।

যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। সে সময়ে রেমিট্যান্স আসে ১৮ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন