

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চলমান মৎস্য প্রজনন মৌসুমে চোরা শিকারিদের অনুপ্রবেশ রোধ এবং মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে পূর্ব সুন্দরবনের অভয়ারণ্যের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ‘ভাড়ানী’ খালের প্রবেশপথ মজবুত কাঠের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে বন বিভাগ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগের ফলে অভয়ারণ্যে অবৈধ প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
শরণখোলা রেঞ্জের দাশের ভাড়ানী খাল এলাকায় দেখা যায়, নৌযান চলাচলের পথ শক্ত কাঠের খুঁটি ও লোহার পেরেক দিয়ে নির্মিত মজবুত কাঠামোর মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খালের তলদেশ থেকে প্রায় ২০ ফুট উঁচু করে খাড়া ও আড়াআড়িভাবে কাঠের খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। তবে এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কিংবা মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে না। শুধুমাত্র নৌকাযোগে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশের পথ বন্ধ করা হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভাড়ানী খালগুলো সুন্দরবনের অসংখ্য শাখা-প্রশাখা খালের প্রধান সংযোগপথ। দীর্ঘদিন ধরে এসব পথ ব্যবহার করে চোরা শিকারি ও অসাধু চক্র গভীর বনে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ শিকারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় জলপথে তাদের অনুপ্রবেশ এখন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের আওতায় মোট ১০টি ভাড়ানী খালের মুখে এ ধরনের কাঠের প্রতিবন্ধক নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদপাই রেঞ্জের লাউডোব ফাঁড়ির মরা ভদ্রার ভাড়ানী, ঘাগড়ামারী ফাঁড়ির জিয়ার ভাড়ানী ও খালেকের ভাড়ানী, ঢাংমারী স্টেশনের হুলার ভাড়ানী ও নওশেরখালী ভাড়ানী, করমজল স্টেশনের চারাখালী ও ৮ নম্বর খালের ভাড়ানী, নন্দবালা ফাঁড়ির সূর্যমুখী খাল এবং শরণখোলা রেঞ্জের ভোলা খাল, তেড়াবেকার খাল ও দাশের ভাড়ানী খাল।
শরণখোলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় কিছু অসাধু চক্র গোপনে অভয়ারণ্যে ঢুকে জাল, বিষ এবং স্থানীয় 'চড়গড়া' পদ্ধতিতে ডিমওয়ালা মা-মাছ ও পোনা নিধন করে। এসব অপরাধীদের প্রধান চলাচলের পথ ছিল ভাড়ানী খালগুলো। তাই খালগুলোর প্রবেশপথ কাঠের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা বন বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রজনন মৌসুমে এসব খালে বড় বড় মা-মাছ ডিম ছাড়ে। আগে চোরা শিকারিরা সহজেই সেখানে প্রবেশ করে মাছ নিধন করত। এখন প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত হবে। ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেদের জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।
পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, খালের মুখ বন্ধ করার পর থেকে অভয়ারণ্যে অপরাধের মাত্রা দৃশ্যমানভাবে কমেছে। মাছের প্রজনন ও সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সুন্দরবনের সামগ্রিক জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বন বিভাগের আশা, মৎস্য প্রজনন মৌসুমে নেওয়া এ উদ্যোগ সুন্দরবনের জলজ সম্পদ রক্ষা, চোরা শিকার দমন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।