

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মধু আহরণের মৌসুম শুরু হলেও বনদস্যু আতঙ্কে এবার সুন্দরবনে যেতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন অনেক মৌয়াল। ফলে একদিকে বনজীবীদের জীবিকা সংকটে পড়েছে, অন্যদিকে নির্ধারিত রাজস্ব আদায় নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে বন বিভাগ।
মৌয়ালদের অভিযোগ, বনদস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ এবং নিরাপদে মধু সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন দস্যু বাহিনী নৌকা প্রতি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করছে। টাকা না দিলে অপহরণ, নির্যাতন এমনকি প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকায় অনেকেই এবার বনে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে সুন্দরবনের মধু আহরণ মৌসুম, যা চলবে ৩১ মে পর্যন্ত। তবে মৌসুম শুরু হলেও এবার তুলনামূলকভাবে কম পাস নিচ্ছেন মৌয়ালরা। পূর্ব সুন্দরবনের বাগেরহাট অঞ্চলে চলতি বছরে এক হাজার কুইন্টাল মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৌয়াল জানান, প্রতি বছর এ সময় তারা মধু সংগ্রহে বনে গেলেও এবার বনদস্যুদের ভয়ে এখনও যেতে পারেননি। দস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দিয়ে বনে প্রবেশ করতে হয়। সমঝোতা না হলে জীবনঝুঁকি থেকে যায়। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই বনে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা।
শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা (রেঞ্জার) মো, খলিলুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত ১১টি নৌকায় ৭৫ জন মৌয়াল সুন্দরবনে গেছেন। তবে দস্যু আতঙ্কে মৌয়ালদের আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে। গত বছর মৌসুমের প্রথম দিনেই ২৯টি পাস নেওয়া হলেও এবার পুরো মৌসুমে সেই সংখ্যায় পৌঁছাবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস জানান, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশন থেকে এখন পর্যন্ত ৩১টি নৌকার মাধ্যমে ২০১ জন মৌয়াল মধু সংগ্রহে গেছেন। তবে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর চাঁদা দাবির কারণে ৬টি নৌকা মধু সংগ্রহ না করেই ফিরে এসেছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এখন পর্যন্ত ৪২টি নৌকায় ২৭৬ জন মৌয়াল মধু আহরণে গেছেন। গত বছর পুরো মৌসুমে ২০০টি পাস নিয়ে ১৩০০ জন মৌয়াল বনে প্রবেশ করেছিলেন। গত বছর ৬৫০ কুইন্টাল মধু ও ২০০ কুইন্টাল মোম উৎপাদন হলেও এবছর তা অর্জন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন বিভাগের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং কোনো মৌয়াল দস্যুদের কবলে পড়লে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এদিকে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন