

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সূর্যের আলো ফোটার আগেই তেলের পাম্পে ভিড় করছেন মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সংগ্রহ করছেন তারা। তীব্র তাপদাহের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অনেকে আবার তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে এই পরিস্থিতিতে মোটরযান চালকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে জেলা ছাত্রদল ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে।
রোববার (৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে লাইনে অপেক্ষমাণ মোটরসাইকেল চালকদের মাঝে পানি ও স্যালাইন বিতরণ করেন জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তেলের কৃত্রিম সংকট রোধে সবাইকে সচেতন করা হয়—যাতে কেউ অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত না করে এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল গ্রহণ করে। এতে সবার জন্য ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নেতা শেখ আল মামুন, আল ইমরান, ইমরান হাওলাদার বাবু, গাজী রিয়াজুল ইসলাম, রোহিত হালদার, ইমন শেখ, রিজভী গাজী, কাইফ শেখ ও আব্দুল্লাহ সরদার প্রমুখ।
আসিফ নামের এক চালক বলেন, অনেকক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, গরমে খুব কষ্ট হয়। আজ ছাত্রদল পানি ও স্যালাইন দিয়েছে, এতে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। এমন উদ্যোগ আরও হওয়া দরকার। আমি মনে করি এটি ছাত্ররাজনীতির ইতিবাচক দিক।
আব্দুল্লাহ শেখ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, এখনও তেল পাইনি। কাজের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। গরমে শরীরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তবে আজ পানি ও স্যালাইন দেওয়ায় একটু স্বস্তি লাগছে। এমন সহযোগিতা সত্যিই অনেক উপকারে আসে।
আশিকুর রহমান নামের আরেক বাইকচালক বলেন, আমি প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়াই। তেল পেতে পেতে প্রায় ১০টা বাজে। এরপর আবার ভাড়ায় যাত্রী বহন করি। কিন্তু ৩০০ টাকার তেল প্রতিদিনই শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় না খেয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্রচণ্ড গরমে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ি। আজ ছাত্রদল পানি ও স্যালাইন দিচ্ছে, এতে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের নেতা শেখ আল মামুন বলেন, ইতিবাচক রাজনীতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মূলনীতি। সেই স্লোগান সামনে রেখে জেলা ছাত্রদল মানবিক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ছাত্রদলকে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাই আমরা সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকেরা অনেক কষ্টে আছেন। এই গরমে তিন-চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল নিতে হচ্ছে। এতে অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ অসুস্থও হয়ে যাচ্ছেন। তাই চালকদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে আমাদের এই ছোট উদ্যোগ। আমরা মানুষের পাশে থাকতে চাই।
তিনি অভিযোগ করেন, অনেকেই আগে ২০০ টাকার তেল নিলেও এখন ১ হাজার টাকার তেল নিচ্ছেন। এভাবে কিছু সিন্ডিকেট তেল মজুত করছে। তারা যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল মজুত না করে, সে বিষয়ে আমরা সচেতন করার চেষ্টা করছি।
মন্তব্য করুন