মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনের গোল ফলের শাঁসে মুগ্ধ পর্যটকরা

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
গোল ফল
expand
গোল ফল

বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদ ও হযরত খানজাহান আলী (রহ.) এর মাজার শরীফে ইতিহাস ও ধর্মীয় আবেশের পাশাপাশি এবার পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের দেশীয় ফল। নাম গোল হলেও দেখতে মোটেও গোল নয়, তবে স্বাদে একেবারেই ব্যতিক্রমী। গোল ফলের নরম শাঁস এখন দর্শনার্থীদের কাছে নতুন ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।

প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটক ষাটগম্বুজ মসজিদ এলাকায় ঘুরতে এসে আগ্রহ নিয়ে এই অচেনা ফলের স্বাদ নিচ্ছেন। অনেকে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের জন্য উপহার হিসেবেও কিনে নিচ্ছেন গোল ফল।

জানা গেছে, সুন্দরবন ও উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে জন্মানো ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ গোলগাছ থেকে এই ফল পাওয়া যায়। গোলপাতা গাছে ভাদ্র - আশ্বিন মাসে ফুল ফোটে এবং কাত্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে ফল ধরে। ফলের বাইরের অংশ শক্ত হলেও ভেতরে থাকে লিচুর মতো নরম শাঁস, যা তাল শাঁসের স্বাদের সঙ্গে তুলনীয়। সামান্য লবণ বা হালকা মিষ্টির ছোঁয়ায় এর স্বাদ আরও বেড়ে যায়।

প্রায় চার বছর আগে প্রথমবার ষাটগম্বুজ মসজিদের সামনে একজন দোকানি গোল ফলের শাঁস বিক্রি শুরু করলে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। বর্তমানে মসজিদ ও মাজার এলাকার সামনের সড়কে ৩০টিরও বেশি রিকশা-ভ্যানভিত্তিক দোকানে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে গোল ফলের শাঁস। প্রতিটি ফল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা দামে।

গোল ফলের শাঁস বিক্রেতারা জানান, আগে নদী ও খালের পাড় থেকে বিনামূল্যে এসব ফল সংগ্রহ করা যেত। এখন চাহিদা বাড়ায় জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রতি কাঁধি ১৫ থেকে ২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একটি কাঁধিতে ১৫০ থেকে ২০০টির মতো ফল পাওয়া যায়, যা বিক্রি করে ভালো আয় করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

পর্যটকদের অনেকেই জানান, জীবনে প্রথমবার গোল ফলের শাঁস খেয়ে তারা মুগ্ধ। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি পোস্ট করছেন, যার ফলে এই ফলের জনপ্রিয়তা আরও বাড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, গোল ফলের শাঁস জনপ্রিয় হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা নতুন আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, উৎপাদকদের চাহিদা বেড়েছে এবং পর্যটন এলাকায় অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি এখন ষাটগম্বুজ মসজিদ ও খানজাহানের মাজার শরীফে আসা পর্যটকদের কাছে গোল ফলের শাঁস হয়ে উঠেছে এক নতুন পরিচয় ও আকর্ষণ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার বকসী বলেন, গোল ফল শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ ও সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো, হজমশক্তি উন্নত করা ও পানিশূন্যতা কমাতে সহায়ক। তাছাড়া যেহেতু এটি টোয়েন্টি অক্সিজেন সমৃদ্ধ ফল সেজন্য একটি আমাদের চর্মরোগ সহ। কিরমির উপদ্রব থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদী কিছু চর্মরোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে। যদিও আমাদের মেডিক্যাল সায়েন্স এটা নিয়ে কাজ করছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X