

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এ আই দিয়ে বানানো প্রবেশ পত্র ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে এসে এক ভুয়া পরীক্ষার্থী ও তার সহযোগীকে আটক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড় ১০টার দিকে কসবা পৌর শহরের তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়ে ওই ভূয়া পরিক্ষার্থী। আটকৃতরা হলেন কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের অকৃতকার্য শিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত (১৮) এবং সহযোগী তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হক (১৯)।
পরীক্ষা কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে কসবা তফজ্জল আলী ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্রে তাসফিয়া রহমান জান্নাত তার ফুফাতো ভাই ইনজামামুল হকের সহযোগিতায় এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ছবি দিয়ে এআই ব্যবহার করে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য একটি ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি করে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসেন। পরীক্ষা শুরু হয়ে যাওয়ায় তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ এবং কেন্দ্র সচিব একে আজাদের বিষয়টি সন্দেহ হলে কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষা উপ-কন্ট্রোলারকে অবগত করেন। তিনি পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে বসাতে বলেন এবং তার প্রবেশ পত্রের ছবি তুলে পাঠাতে বলেন।
অধ্যক্ষ একে আজাদ পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্রের ছবি তুলে পাঠালে বোর্ডের উপ- কন্ট্রোলার যাচাই করে তফজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষকে জানান তাসফিয়া আক্তার জান্নাত নামে মহিলা ডিগ্রি কলেজের কোন পরীক্ষার্থী এবছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। ওই পরীক্ষার্থীর প্রবেশ পত্র ভূয়া। তখন কেন্দ্র সচিব ও তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ একে আজাদ অফিস রুমে নিয়ে তাদেরকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ছামিউল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ তানজিল কবির কেন্দ্রে যান। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দুজনের অভিভাবকদেরও খবর দিলে তারাও কেন্দ্রে আসেন। বিস্তারিত শুনে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত ভূয়া পরিক্ষার্থী তাসফিয়া রহমান জান্নাত ও সহযোগী ইনজামামুল হককে ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ তানজিল কবির।
কেন্দ্র সচিব তফাজ্জল আলী ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রবেশপত্র যাচাইয়ের সময় কোড নম্বর ও পরীক্ষার বিষয় মিল না থাকায় আমরা বিষয়টি আমাদের সন্দেহ হয়। পরে বোর্ডের পরীক্ষা উপ কন্ট্রোলারের সহযোগিতায় নিশ্চিত হই সে ভূয়া পরিক্ষার্থী। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
সহকারী কমিশনার ( ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ তানজিল কবির বলেন, ভূয়া প্রবেশ পত্র বানিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে আসে এক শিক্ষার্থী। বিষয়টি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে ধরা পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীসহ দুজনকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে এমন কাজ করবেনা বলে মুচলেকা দিয়েছেন অভিযুক্ত ও তার অভিভাবকরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছামিউল ইসলাম বলেন, ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে তারা আটক হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এবছর উপজেলায় ২ হাজার ৯ শ ৫২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন। আজ প্রথম দিনে একজন বহিষ্কার ও একজন ভূয়া পরিক্ষার্থী ধরা পড়েছে।
