

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোর থেকেই নতুন পোশাকে সেজে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে যান গ্রামের বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে। ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয় আনন্দ, সম্প্রীতি ও মিলনমেলার আবহ।
সকাল থেকেই জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঈদগাহ মাঠে মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশু, কিশোর, যুবক থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও অংশ নেন ঈদের জামাতে। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ভাগাভাগি করে নেন ঈদের আনন্দ।
ঈদের জামাতকে ঘিরে ঈদগাহ মাঠগুলোতে নেওয়া হয় বিশেষ প্রস্তুতি। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা। কোথাও কোথাও যানজট এড়াতে স্বেচ্ছাসেবীদের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতেও দেখা যায়।
নামাজ শেষে শুরু হয় কোরবানির প্রস্তুতি। গ্রামের বাড়িগুলোতে দেখা যায় ব্যস্ততা—পশু জবাই, মাংস প্রস্তুত ও আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়ন নিয়ে। অনেকে কোরবানির মাংস গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেন।
গোমস্তাপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. রাকিব হাসান বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ আর মিলনের উৎসব। শহরে যত আয়োজনই থাকুক, গ্রামের ঈদের পরিবেশের সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা হয় না। সকালে ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ আদায়, কোলাকুলি আর সারাদিন আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে ঘুরে বেড়ানোর মধ্যেই ঈদের প্রকৃত আনন্দ খুঁজে পাই।”
ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ঈদ উদযাপন করতে আসা মিরপুর বাংলা কলেজের শিক্ষার্থী আঃ রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, “সারা বছর পড়াশোনা ও ব্যস্ততার কারণে গ্রামের পরিবেশ খুব একটা উপভোগ করা হয় না। ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের সবার সঙ্গে একত্রিত হওয়ার সুযোগ হয়। গ্রামের ঈদের আনন্দটাই আলাদা। সকালে ঈদগাহে নামাজ, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করা এবং সবাই মিলে কোরবানির কাজ করার মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি পাওয়া যায়।”
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, শহরের কোলাহল ছেড়ে ঈদে গ্রামের পরিবেশে এক ভিন্ন ধরনের আনন্দ পাওয়া যায়। খোলা মাঠে ঈদের জামাত, আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও পারিবারিক মিলনমেলা গ্রামীণ ঈদকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য এক চিত্র ফুটে ওঠে পুরো এলাকায়।