

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দর-এ টানা সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্দর দিয়ে কোনো ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ বা বের হতে পারবে না। একইসঙ্গে বন্ধ থাকবে কাস্টমস কার্যক্রম ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া। তবে এ সময়েও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে দুই দেশের ব্যবসায়ী, বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ মে বিকেল থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে দুই দেশের মধ্যকার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। এরপর টানা সাত দিন বন্দর এলাকায় পণ্য ওঠানামা, পরিবহন ও খালাস কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত থাকবে। আগামী ১ জুন সকাল থেকে পুনরায় স্বাভাবিক নিয়মে শুরু হবে আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, ঈদের সময় অধিকাংশ ব্যবসায়ী নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করেন এবং কাস্টমস ও বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ছুটিতে থাকেন। ফলে এ সময় পণ্য ছাড়ের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকে। সেই বিবেচনায় প্রতিবছরের মতো এবারও সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় ঈদের দিন ছাড়া সীমিত পরিসরে কাস্টমস হাউস খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।
বন্দর সূত্র জানায়, সরকার ঘোষিত ঈদের ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেট্রাপোল বন্দর ও বেনাপোল বন্দরের মধ্যকার পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখা হবে। এ সময় বন্দরের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের পণ্য খালাস বা লোড-আনলোড কার্যক্রম চলবে না। তবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) মো. শামীম হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে বন্দর এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, চুরি বা নাশকতা না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মী, আনসার সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। পাশাপাশি বিশেষ প্রয়োজনে কোনো আমদানিকারক পণ্য খালাস নিতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও দেওয়া হবে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিকে ঘিরে বন্দর এলাকায় বাড়তি নজরদারি থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।
অন্যদিকে, বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন-এর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রী চাপ বাড়তে পারে বিবেচনায় অতিরিক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।