

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ২০০ টাকা বকশিশ না পেয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেওয়ার দুই মিনিটেই রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে হাসপাতালের ওপিডি ভবনের মেডিসিন বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে মৃত নারীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
মারা যাওয়া রোগী দিপালী সিকদার (৪০) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের শংকর শিকদারের স্ত্রী।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে দিপালীকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসক তাকে দ্রুত ওপিডি ভবনের মেডিসিন বিভাগে স্থানান্তর করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে টানা ২ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন দেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে তাকে একটি ট্রলিতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল।
দিপালীর ভাই মিলন হাওলাদার বলেন, দিপালী যখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচার লড়াই করছিলেন, ঠিক তখনই মেডিসিন ইউনিট-১ এর কর্মচারী সোহেল সেখানে হাজির হন। পাশের অন্য এক রোগীর স্বজনরা ট্রলিটি নেওয়ার জন্য সোহেলকে ২০০ টাকা দেয়।
তার অভিযোগ, টাকার লোভে সোহেল আমার বোনের ছটফটানি উপেক্ষা করেই অক্সিজেনের লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা হাত-পা ধরলেও সে শোনেনি। অক্সিজেন খোলার ঠিক দুই মিনিটের মাথায় বোন মারা যায়। এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, আমার বোনকে খুন করা হয়েছে।
এদিকে দিপালীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন। তারা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলকে টেনেহিঁচড়ে, মারধর করেন। এ সময় হাসপাতালের অন্য স্টাফরা সোহেলের পক্ষ নিয়ে দিপালীর স্বজনদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ান তারা। পরে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বেতন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
