বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে গলা কেটে ৫ খুন: সেই ফোরকানের মরদেহ মিলল পদ্মা নদীতে

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
ফোরকান মিয়া
expand
ফোরকান মিয়া

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালকসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার আলোচিত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পদ্মা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে পদ্মা সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডের পর ফোরকান সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এরই মধ্যে পদ্মা সেতুর ওপর একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিআইডি। পরে যাচাই-বাছাই করে জানা যায়, সেগুলো পলাতক ফোরকানের। পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে ওই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নৃশংস এ ঘটনায় নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।

পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের একটি বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। তার বাবার নাম আতিয়ার রহমান মোল্লা।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে গিয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান।

ঘরের মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে ছিল তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ। তাদের মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল। আর শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পড়ে ছিল বিছানার ওপর। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্বজনরা।

ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ এবং কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মরদেহের পাশে কিছু প্রিন্ট করা কাগজও পাওয়া যায়। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন এবং সেখানে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ আগেই দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন