বুধবার
১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারগঞ্জে সড়কের ধারে আবর্জনার পাহাড়, বন্ধ কোটি টাকার ডাম্পিং স্টেশন

ইয়াসিন আরাফাত, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
মাদারগঞ্জে সড়কের ধারে আবর্জনার পাহাড়
expand
মাদারগঞ্জে সড়কের ধারে আবর্জনার পাহাড়

জামালপুরের মাদারগঞ্জে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা; অকেজো প্রায় কোটি টাকার ডাম্পিং স্টেশন।

বুধবার (১৩ মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদারগঞ্জ-জামালপুর মহাসড়কের বালিজুড়ী বাজার ফার্নিচার মোড়ের পাশেই দীর্ঘদিন ধরে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। প্রতিদিন বাজারের ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে মহাসড়কের পাশেই ফেলছে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পৌরবাসী, পশু-পাখি ও গাছপালা।

পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদনের জন্য মাদারগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাবনী কনস্ট্রাকশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ডাম্পিং স্টেশনটি মাদারগঞ্জ পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করে।

সে সময় মাদারগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জামালপুর-৩ আসনের সাতবারের সংসদ সদস্য মির্জা আজমের ছোট ভাই, জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির। ডাম্পিং স্টেশনের কাজ পান মেয়রের ছোট ভাই, মেসার্স লাবনী কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মির্জা গোলাম মওলা সোহেল।

ডাম্পিং স্টেশনটি দ্রুত চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

মাদারগঞ্জ পৌরসভার শুভগাছা এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়, যার নির্মাণ ব্যয় ছিল ৮৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা। শুভগাছা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর ও রবিউল জানান, শেখ হাসিনার সরকার থাকাকালেই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। দুই বছর পার হলেও এখানে কোনো ময়লা-আবর্জনা আনা হয়নি এবং সার উৎপাদনও শুরু হয়নি। আগে এখানে বাইরের লোকজন আড্ডা দিত, তবে গেটে তালা লাগানোর পর এখন কিছুটা নিরাপদ রয়েছে। বর্তমানে এর ভেতরে ভুট্টা শুকানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খালেদুজ্জামান মনি তালুকদার বলেন, আগে এই ডাম্পিং স্টেশন ঘিরে ময়লা-আবর্জনা ছিল। বর্তমানে এলাকার যুবদল নেতা আব্দুর রাজ্জাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পর অনেক মানুষ যাতায়াত করছে। তিনি সরকারের কাছে ডাম্পিং স্টেশনটি দ্রুত চালুর দাবি জানান।

ডাম্পিং স্টেশনের ভেতরে রাখা ভুট্টার মালিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ৫ আগস্ট কিছু লোক ভাঙচুর করতে এলে তিনি বাধা দেন। এরপরও বিক্ষিপ্ত জনতা ২-৩টি পাইপে আগুন লাগায়। গত এক মাস ধরে প্রধান গেটে তালা দেওয়ার পর এখন এটি সুরক্ষিত আছে। আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে আড্ডা দিত ও নেশা করত।

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, তিন পৌরসভা প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ৮০ লাখ ৬৫ হাজার ২৪৭ টাকা ব্যয়ে ডাম্পিং স্টেশনটি নির্মাণ করা হয়। অফিসের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশনে এনে প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার উৎপাদন করা।

মাদারগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক সুমন চৌধুরী জানান, শুভগাছা এলাকায় জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ডাম্পিং স্টেশন কাম বায়োগ্যাস প্লান্ট নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্টস তারা পাননি। ডাম্পিং স্টেশনটি চালুর জন্য প্রয়োজন টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও জনবল, যা বর্তমানে নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে এবং ডকুমেন্টস চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পৌরসভার মাধ্যমে নিকটবর্তী স্থানে নতুন ডাম্পিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন