শনিবার
০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জমি দখল ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম আপডেট : ০২ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
ছবি: এনপিবি নিউজ
expand
ছবি: এনপিবি নিউজ

ভোলার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিকদার বাড়ি এলাকায় এক ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন নূরনবী ও তার সহযোগীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আব্দুল করিম।

শনিবার (২ মে) ভুক্তভোগী আব্দুল করিমের বসতবাড়িতে তার আত্মীয়-স্বজনরা অবস্থানকালে নূরনবীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বটি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্বিচারে আঘাত করলে আব্দুল করিমের ভাইয়ের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল করিম কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, গত ১৭ বছর ধরে অ্যাডভোকেট নূরনবী তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “আমার ও আমার আত্মীয়-স্বজনসহ ৪৫ জনের নামে ২০টির বেশি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নিঃস্ব করা হয়েছে। মাসে ২৫ দিন আমাদের কোর্টে কাটাতে হতো। এমনকি আমার স্ত্রীকে জেলখানায় সন্তান প্রসব করতে হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর আমার চাকরি স্থগিত রাখা হয়েছে এবং আমাদের এলাকা ছাড়া করা হয়েছিল।”

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত নূরনবী বারবার তা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। সর্বশেষ শনিবারের এই হামলায় নূরনবী ছাড়াও নুরুজ্জামান সদো, মোহাম্মদ ফারুক, নূরে আলম, ফরিদা ইয়াসমিনসহ আরও কয়েকজন অংশ নেন বলে জানা গেছে।

ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীও হামলার শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে করিম ও সাইফুল নামের দুজনকে আটক করা হয়। তবে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এসআই-এর বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। প্রথমে তিনি ঘটনাটিকে সাধারণ ধাক্কাধাক্কি বললেও পরে ভিন্ন বক্তব্য দেন, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে নির্যাতনের শিকার আব্দুল করিম বর্তমান সরকারের কাছে বিচার দাবি করে বলেন, “আমরা আর নির্যাতিত হতে চাই না। আমরা আমাদের জমি ও জীবনের নিরাপত্তা চাই। প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই জুলুমের বিচার চাই।”

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন