

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক মাস বয়সী কন্যা শিশুকে রেখে হঠাৎ বাড়ি থেকে চলে গেছেন এক গৃহবধূ। মায়ের স্নেহবঞ্চিত হয়ে নবজাতকের অবিরাম কান্নায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার সমাধান চেয়ে থানা-পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও আত্মীয়-স্বজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় ওই পিতা। দ্রুত শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী স্বামী রাতুল ইসলাম রাফি (২৪) উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেনের ছেলে। অপরদিকে সন্তানকে রেখে চলে যাওয়া স্ত্রী ইশরাত জাহান মারিয়া হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জাকেরের মেয়ে।
জানা যায়, প্রেমের সম্পর্কের জেরে ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর রাফি ও মারিয়ার বিয়ে হয়। গত ১ এপ্রিল তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি কন্যা সন্তান, যার নাম রাখা হয় রিক্তা। শিশুটির বাবা জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে টিকা কার্ড আনার অজুহাতে মারিয়া তার বাবার বাড়িতে যান। এরপর থেকে তিনি আর স্বামীর ঘরে ফিরে আসেননি।
এদিকে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটি অবিরাম কান্নাকাটি করছে। পরিবার-পরিজনের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে শান্ত করা যাচ্ছে না। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
স্বামী রাফি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর এই হঠাৎ পরিবর্তনের পেছনে শাশুড়ির এক বান্ধবী রেহানার প্ররোচনা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালেও ওই নারী তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। বর্তমানে একই নারীর প্রভাবে মারিয়া নবজাতক সন্তানকে রেখে তার বাসায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাফি আরও বলেন, তিনি রেহানার বাসায় গিয়ে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় তিনি তার স্ত্রী ও শাশুড়িকে সেখান থেকে বের হতে দেখেছেন বলেও জানান।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “স্ত্রী আমার সঙ্গে সংসার না করলেও সমস্যা নেই। কিন্তু নিষ্পাপ শিশুটির কী অপরাধ? কেন তাকে মায়ের ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে?” তবে এ বিষয়ে স্ত্রী মারিয়া কিংবা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দিলীপ বিশ্বাস জানান, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে তিনি স্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রেহানা নামের এক নারী মারিয়াকে তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন।
কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদুল আলম তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আগামীকাল সকাল ১১টায় থানায় আসলে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।”
মন্তব্য করুন