রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝড়ের কবলে ২ লঞ্চ আটকা

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
কালবৈশাখী ঝড়ে মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে আটকা পড়ে এমভি সমতা লঞ্চ; আতঙ্কের মধ্যেও লঞ্চের ভেতরে অবস্থান করছেন যাত্রীরা।
expand
কালবৈশাখী ঝড়ে মেঘনা নদীর চরাঞ্চলে আটকা পড়ে এমভি সমতা লঞ্চ; আতঙ্কের মধ্যেও লঞ্চের ভেতরে অবস্থান করছেন যাত্রীরা।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল ও বাহাদুরপুর চরসংলগ্ন এলাকায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ আটকা পড়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। লঞ্চে থাকা শতাধিক যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ-পুলিশ।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই মেঘনা নদীতে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৈরী আবহাওয়ার সৃষ্টি হলে নদীপথে চলাচলরত লঞ্চগুলো বিপদের মুখে পড়ে। এর মধ্যে চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটের এমভি সাথী ও এমভি সমতা নামের দুটি লঞ্চ ঝড়ের তাণ্ডবে চরাঞ্চলে আটকা পড়ে।

স্থানীয় সূত্র ও নৌ-পুলিশ জানায়, বিকেল ৪টায় চাঁদপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি সাথী লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনাপাড়ের বাহাদুরপুর চরের কাছে পৌঁছালে প্রবল ঝড়ের মুখে পড়ে। ঝড়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লঞ্চটির পাখার সঙ্গে কারেন্ট জাল জড়িয়ে যায়। এতে চালক লঞ্চটি নিরাপদে বাহাদুরপুর চরে তুলে দেন। পরে লঞ্চটি আর নদীতে নামানো সম্ভব হয়নি। আটকা পড়া যাত্রীরা পরে স্থানীয় ট্রলারের মাধ্যমে নিরাপদে তীরে পৌঁছান।

অন্যদিকে, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি সমতা লঞ্চটিও ঝড়ের কবলে পড়ে। শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি বৈরী আবহাওয়ায় টিকে থাকতে না পেরে ষাটনল ও গজারিয়া উপজেলার শোল্লানী চরসংলগ্ন এলাকায় আটকা পড়ে।

ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার দবির উদ্দিন জানান, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই ছিল যে চালক প্রাণপণ চেষ্টা করেও লঞ্চটি স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরসংলগ্ন স্থানে লঞ্চটি আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

মোহনপুর লঞ্চঘাটের ইজারাদার বোরহান উদ্দিন বলেন, আকস্মিক ঝড়ে নদীপথে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এমভি সমতা লঞ্চে আটকা পড়া সাংবাদিক গোলাম নবী খোকন বলেন, হঠাৎ করেই নদীতে প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। চারদিকে দমকা হাওয়া আর ঢেউয়ে লঞ্চ দুলতে থাকে। একসময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে চালক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে লঞ্চটি নিরাপদ স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চর এলাকায় আশ্রয় নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাই। আল্লাহর রহমতে সবাই নিরাপদে আছি।

মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা পারস্থ মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, এমভি সমতা ও এমভি সাথী উভয় লঞ্চের যাত্রীরাই নিরাপদে রয়েছেন। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া আল বোরাক নামে আরেকটি লঞ্চ মুন্সিগঞ্জের চর আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আটকা পড়েছে, যা আমাদের সীমানার বাইরে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন