

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশে আমের মৌসুমের সূচনা যেন হয় সাতক্ষীরার হাত ধরেই। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবছরই এই জেলাতেই সবার আগে আম পরিপক্ক হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছরও নির্ধারিত সময় মেনে পরিপক্ব, নিরাপদ ও সুমিষ্ট আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে ‘আম ক্যালেন্ডার’ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেন। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদসহ আম চাষি সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এখনই জেলার বিভিন্ন বাগানে দেখা মিলছে আমের সমারোহ। গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা আম; তপ্ত রোদের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে তাদের রং, জমছে মিষ্টতার সম্ভাবনা। তবে এই স্বাভাবিক পাকার প্রক্রিয়া ব্যাহত না করতেই প্রশাসনের এই সময়সূচি নির্ধারণ।
ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ৫ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, বৈশাখী, বোম্বাইসহ স্থানীয় বিভিন্ন জাতের আম সংগ্রহ করা যাবে। ১৫ মে থেকে বাজারে আসবে হিমসাগর ও খিসরা। ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম ভাঙার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, সাতক্ষীরার উপকূলীয় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য, নিম্নভূমি, লবণাক্ততার প্রভাবমিশ্রিত মাটি এবং গ্রীষ্মের তীব্র তাপ—আম দ্রুত পরিপক্ক হওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ফলে উত্তরাঞ্চলের রাজশাহী বা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে আসার আগেই সাতক্ষীরার আম পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। আগাম পাকার এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে প্রতিবছর বিদেশেও, বিশেষ করে ইউরোপের বাজারে, প্রথম দিকের চালান হিসেবে রপ্তানি হয় এই জেলার আম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, চাষিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ল্যাংড়া ও আম্রপালি জাতের আম ভাঙার সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমে প্রয়োজনীয় পরিপক্বতা আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি থাকবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত ক্যালেন্ডার মেনে আম সংগ্রহ করা গেলে সাতক্ষীরার আমের গুণগত মান ও সুনাম যেমন বজায় থাকবে, তেমনি কৃষকও পাবেন ন্যায্য মূল্য। পাশাপাশি দেশের বাজারের পাশাপাশি রপ্তানি খাতেও এই জেলার আম নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে।
মন্তব্য করুন