

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাসুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত এক আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টায় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ধানের শীষের প্রার্থী ও পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে ৬০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ (বাবু), যুবদল নেতা মো. আনার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাজু আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির (পাপ্পু) রয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনের মধ্যে এজাহারে উল্লেখিত ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন।
বাকিরা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হয়েছেন। তাঁদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন এমপি মাসুম মোস্তফা।
সন্ধ্যায় শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের আতকাপাড়া গিরিপথ এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে গিয়ে তিনি নামাজঘরে মাগরিবের নামাজ আদায় করতে যান। এ সময় প্রায় ১৫টি মোটরসাইকেলে করে ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক সেখানে এসে হট্টগোল শুরু করে এবং একপর্যায়ে এমপির গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।
নামাজ শেষে বাইরে বের হলে বিক্ষুব্ধ যুবকেরা তাকে ধাওয়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খায়।
পরে খবর পেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাঠানো গাড়িতে তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রাত ১০টার দিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমপি মাসুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরাই তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
মন্তব্য করুন