

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জ্বালানি তেলের জন্য পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন এখন সাধারণ চিত্র হয়ে উঠেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের দেখা মিলছে। কয়েক লিটার তেলের আশায় যানবাহন নিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। কেউ আবার ঘুমিয়ে পড়ছেন লাইনে দাঁড়িয়ে। এভাবে দিনের প্রায় অর্ধেকটা সময় চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি অপচয় হচ্ছে মূল্যবান কর্মঘণ্টার। এমন ভয়াভহ জনদুর্ভোগের চিত্র দেখা যায় টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে।
তবে ভুক্তভোগীরা জানান, রাতের বেলায় বড় যানবাহনে ডিজেল আর দিনে পেট্রোল বা অকটেন দিলে এই জনদুর্ভোগ কমে যেতো অনেকটা।
উপজেলার সাগরদীঘি তমা ফিলিং স্টেশনে মাহিন্দ্রা ড্রামট্রাক নিয়ে গত সোমবার রাত ১০টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন চালক রবিউল ইসলাম। কিন্তু পরের দিন সকালেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। পাম্পের বিক্রয়কর্মীরা জানিয়েছেন, তেল মিলতে পারে মঙ্গলবার সকাল ৯ টার পর। তাই বাধ্য হয়ে এখন পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েই অপেক্ষা করছেন তিনি৷ সারা রাত ঘুমাতে পারেননি। তাই লাইনে দাঁড়িয়েই ক্লান্ত শরীরে নিজের অজান্তে ঘুমিয়ে পড়েছেন রবিউল।
শুধু রবিউল নয় তেলের জন্য এই ফিলিং স্টেশনের সামনে গাড়ি নিয়ে রাত কাটিয়েছেন শত-শত চালক৷
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, তমা ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু হয়ে লাইনটি ৩ কিলোমিটার জোরদিঘী বিএম কলেজ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা এসব গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি। তাছাড়া প্রাইভেটকার, ট্রাক ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত মাহিন্দ্রা গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
ফুলবাড়িয়া থেকে আগত এক মোটরসাইকেল চালক জানান, তারা গতকাল রাত ১০টার সময় থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও এখনো তেল মেলেনি। এমন অবস্থায় পাম্পের আশপাশে ছায়াযুক্ত জায়গাগুলোতে কেউ গাড়ির ভেতরে, কেউ বাইরে সময় কাটাচ্ছেন। ডিজেল এবং পেট্রোল একই সময়ে দেওয়ায় বিভিন্ন প্রকার আগত গাড়ির চাপে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাগরদিঘী-সখিপুর সড়কে পায়ে হেটে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে। জনদুর্ভোগে পরিনত হচ্ছে পাম্প এলাকাটি।
স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, প্রতিদিন তেল আসলে ভিড় একটু কম থাকে। দুই বা তিন দিন পর তেল আসলে ভোগান্তি বেড়র যায় বহুগুণ। এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের চলাচলই কঠিন হয়ে যাবে।
এদিকে তমা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার স্বপন জানিয়েছেন, আজকের জন্য ১৮ হাজার লিটার ডিজেল এবং ৯ হাজার লিটার পেট্রোল সংরক্ষণ করা আছে। যা বিপুল চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
তবে এর মধ্যেই গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এক প্রজ্ঞাপনে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের মূল্য পরিবর্তন করে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন