বুধবার
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রকৃত কৃষক কবিরের কৃষি কার্ড প্রাপ্তি, টাঙ্গাইলে বিতর্কের ঝড়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকার বর্গাচাষি কবির হোসেন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষি কার্ড গ্রহণ করার পরপরই তাকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। গত মঙ্গলবার শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কার্ড গ্রহণ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি এলাকায় একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই পরিচিত।

তবে কৃষিকাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করার বিষয়টি সামনে আসার পর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কৃষি কার্ডের সুবিধা কি কেবলমাত্র পেশাদার কৃষকরাই পাচ্ছেন, নাকি অন্য পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও এর আওতায় চলে আসছেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কবির কৃষিকাজ করলেও তিনি নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করেন। এ কারণে কৃষি কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, কয়েকজন কৃষকের দাবি, কবির যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষি কার্ড পাওয়ার যোগ্য। তাদের ভাষ্য,কৃষিকাজই তার মূল পেশা, তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমি একজন কৃষক। কৃষিকাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

উল্লেখ্য, কৃষকদের প্রণোদনা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগে কৃষি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন