

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতাল এ ভুল চিকিৎসার অভিযোগে রাকিবা (২০) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক সালিসের মাধ্যমে ১১ লাখ টাকায় মীমাংসা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে পৌর সদরের একটি হোটেলে উভয় পক্ষের স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. খবির উদ্দিন।
সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে মোট ১১ লাখ টাকা প্রদান করতে বলা হয়। এর মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি ৯ লাখ টাকা আগামী এক মাসের মধ্যে দেওয়ার কথা রয়েছে।
সিদ্ধান্তে আরও উল্লেখ করা হয়, মোট অর্থের মধ্যে ৮ লাখ টাকা মৃত প্রসূতির নবজাতক পুত্রসন্তানের নামে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে রাখা হবে। অবশিষ্ট ৩ লাখ টাকা প্রসূতির স্বামী ও বাবার পরিবারের মধ্যে সমানভাবে (প্রতি পক্ষ ১.৫ লাখ টাকা) বণ্টন করা হবে।স্বামীর বাড়ীর লোকজন তাদের ভাগের টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই একটি জীবনের বিনিময়ে অর্থের মাধ্যমে আপসকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছে যেখানে জীবনের মূল্য টাকায় নির্ধারিত হয়, সেখানে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও মানবিকতার অবস্থান কোথায়? স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, চিকিৎসা সেবায় অবহেলা বা গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তার যথাযথ তদন্ত ও আইনি বিচার হওয়া প্রয়োজন ছিল। আপসের এই সংস্কৃতি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান,সালিসি বৈঠকের বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা করেননি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে মামলা করবে।
অপরদিকে, প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছে।
তবে হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সালিসি বৈঠকে আমি উপস্থিত ছিলাম না, আমার স্ত্রী ছিলেন। বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। ১১ লাখ টাকা জরিমানার বিষয়টি সঠিক নয়।
উল্লেখিত (৪ এপ্রিল) নবীনগর সদরের আহমেদ হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলার কারণে রাকিবা (১৮) নামে প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠে।
মন্তব্য করুন
