শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

‘ইউএনও বদলিতে মাধবপুর কলঙ্কমুক্ত হয়েছে’

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ পিএম
ইউএনও জাহিদ বিন কাশেম।
expand
ইউএনও জাহিদ বিন কাশেম।

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলির খবরে স্থানীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মন্তব্য করে বলেছেন, “এই বদলির মাধ্যমে মাধবপুর কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।” এবিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

তিনি অভিযোগ করে জানান, মাধবপুরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৫০ জন স্ত্রী-সন্তান ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও এখনো অনেক আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে এসব পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএনও জাহিদ বিন কাশেম মুক্তিযোদ্ধা ভাতা কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি “কলঙ্কজনক অধ্যায়” সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এছাড়া, জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়ে আসা বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচি বাতিল করার অভিযোগও তোলেন ইউএনও'র বিরুদ্ধে।

জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে এখানে নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো।

আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়সূচি সকাল থেকে পরিবর্তন করে বেলা ২টায় নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নেতা হাসানুজ্জামান উসমান বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির খুবই বিরল।” তিনি বদলিতে মাধবপুর কলঙ্ক মুক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ৪ঠা এপ্রিল ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আযম খাঁন বলেন, মাধবপুরের মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি অব্যবস্থাপনার কারণে অবহেলিত এবং আবর্জনায় ভরপুর যা মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার সামিল, তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা চত্বরটি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে যে অসন্তোষ ছিল, সাম্প্রতিক এই বদলির মাধ্যমে তা দূর হবে। নতুন ইউএনওর আগমনে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরে আসবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

এবিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা আহবায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা রতিরঞ্জন দাস জানান, এই ইউএনও'র আমলে গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে চুরি হয় এই ঘটনায় থানায় জিডি করে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাশেমকে অবগত করেন।তিনি আজ পর্যন্ত এই বিষয়ে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

জাহিদ বিন কাশেম বিগত দিনের ইউএনওদের চেয়ে ব্যতিক্রম। আগের ইউএনওরা মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ খবর নিত। তিনি যতদিন মাধবপুরে আছেন মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো কার্যক্রম করেনাই।

মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহবায়ক ইদ্রিস আলী, দুলা মিয়া জানান, এই ইউএনও জাহিদ বিন কাশেমের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, সচিবালয়, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল বরাবর রেজুলেশন দিয়েছি। এবিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম জানান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে চুরির ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রতিস্থাপন আবেদনের বিষয়ে তিনি অবগত আছেন বলে জানান।

বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি দুপুরে ফুল দেওয়ার সময়সূচির বিষয়ে প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সময় নির্ধারণ করা হয় বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাধবপুর উপজেলার বর্তমান ইউএনও জাহিদ বিন কাশেমকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে এবং নতুন ইউএনওকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন