বৃহস্পতিবার
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্যাতনে স্ত্রীর আত্মহনন, স্বামী গ্রেপ্তার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
অভিযুক্ত মোনাইদ হোসেন
expand
অভিযুক্ত মোনাইদ হোসেন

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় স্বামীর ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর বিষপানে মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় করা মামলায় ওই গৃহবধূর স্বামী মোনাইদ হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরআগে গতকাল বুধবার বিকাল তিনটার দিকে পাশ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রাম থেকে তাকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার মোনাইদ হোসেন উপজেলার বাখরপুর গ্রামের মো. শফিকুল ইসলামের ছেলে।

আর নিহত শাহিদা আক্তার পাশ্ববর্তী মধুপুর গ্রামের শহিদ মিয়ার মেয়ে।

সাহিদা মোনাইদের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সংসারে মোনাইদের চার বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর খানেক আগে এক প্রবাসীর সাথে সাহিদার বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশে থাকায় বাবার বাড়িতে থাকতেন সাহিদা। গত বছরের আগস্টে নানা বাহানায় বাড়িতে গিয়ে সাহিদাকে ধর্ষণ করেন মোনাইদ হোসেন। এ নিয়ে আদালতে মামলাও করেন সাহিদা। মামলা থেকে বাঁচতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাহিদাকে বিয়ে করেন মোনাইদ। এক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেন সাহিদা। কিন্তু বিয়ের পর মোনাইদসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে যৌতুক হিসেবে ছয় লাখ টাকা বাড়ি থেকে এনে দিতে বলেন মোনাইদ। দরিদ্র বাবার পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানায় সাহিদা। এতে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

এক পর্যায়ে স্বামীসহ পরিবারের লোকজন মিলে সাহিদাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। সেইসাথে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ২৯ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন সাহিদা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে রাতেই তিনি মারা যান।

পরে ১ এপ্রিল নিহতের বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে সাহিদার স্বামী মোনাইদ, শ্বশুরসহ পরিবারের সাত জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এতে আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। গতকাল বুধবার বিকালে পাশ্ববর্তী খালিয়াজুরী উপজেলার বোয়ালী গ্রামে ঘুরাঘুরি করার সময় মোনাইদকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা শহিদ মিয়া বলেন, মোনাইদ মাদকসেবন করে, জুয়া খেলে। ধর্ষণের পর চাপে ফেলে আমার মেয়েকে সে বিয়ে করে। যদিও সে বিবাহিত, তার স্ত্রী সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য মারধর শুরু করে। যৌতুক দিতে না পারায় গালাগাল করে তারা সাহিদাকে বলে - 'কত মানুষ আত্মহত্যা করে, তুই আত্মহত্যা করে মরতে পারস না'। এদের মারধর, গালাগাল, অপমান নির্যাতন সইতে না পরে আমার মেয়ে বিষ খেয়ে মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, মামলার প্রধান আসামি মোনাইদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন