

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নববধূ-বর ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে নিহত হন মাইক্রোবাস চালক মো, নাঈম শেখ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে তার পরিবার। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বজনরা।
স্ত্রী কবিতা আক্তার, ১৬ মাস বয়সী মেয়ে নওশীন নাঈম নুসাইবা ও মা ফাতেমা বেগমকে নিয়ে ছোট হলেও সুখের সংসার ছিল নাঈমের। বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় নিজ বাড়িতে ঠাঁই না হওয়ায় মোংলা উপজেলার কুমারখালী গ্রামের শিকারি মোড় এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার আগের দিন গাড়ি চালাতে বের হওয়ার সময় স্ত্রী ও মেয়েকে বলেছিলেন, ফিরে এসে ঈদের কেনাকাটা করবেন। কিন্তু সেই ফেরা আর হয়নি। দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফেরেন নাঈম। পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তিন নারীর জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাড়া বাড়ির উঠানে বালু নিয়ে খেলছে নাঈমের একমাত্র মেয়ে নুসাইবা। মাঝে মাঝে মায়ের কোলে উঠে বাবার কথা জানতে চাইছে, কিন্তু সে এখনও বোঝে না তার বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। ঘরের ভেতর নীরবে বসে আছেন স্ত্রী কবিতা আক্তার, তার মা এবং স্বজনরা। স্বামীকে হারিয়ে যেন চোখের পানি শুকিয়ে গেছে কবিতার, শোকে পাথর হয়ে গেছেন তিনি।
নাঈমের স্ত্রী কবিতা আক্তার বলেন, আমাদের সংসারে আয় করার মতো একমাত্র মানুষ ছিল আমার স্বামী। এখন আমার ছোট বাচ্চা, শাশুড়ি আর নিজের দায়িত্ব আমার ওপর। আমি লেখাপড়া জানি। সরকার যদি আমাকে কোনো চাকরির ব্যবস্থা করে দিত, তাহলে পরিবারটা নিয়ে বাঁচতে পারতাম।
স্বজনরা জানান, নাঈমের পরিবারে এখন আর কোনো উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। স্ত্রী শিক্ষিত হওয়ায় তাকে কোনো চাকরির ব্যবস্থা করে দিলে পরিবারটি বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে।
জানা গেছে, মাইক্রোবাস চালক মো. নাঈম শেখ রামপাল উপজেলার জিগিরমোল্লা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে। ২০১৯ সালে মোরেলগঞ্জ উপজেলার শনিরজোর গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে কবিতা আক্তারকে বিয়ে করেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওইদিন রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে বর, বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ ৯ জনকে মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। নববধূ, তার বোন ও দাদিকে দাফন করা হয় কয়রার নকশা এলাকায় এবং নানিকে দাফন করা হয় চালনা এলাকায়। অপরদিকে মাইক্রোবাস চালক নাঈম শেখকে তার নিজ গ্রাম রামপালে দাফন করা হয়।
স্থানীয়রা অসহায় এই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন