সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চিলমারী বন্দরে অবৈধ হাউজবোট

চিলমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম
চিলমারী বন্দর
expand
চিলমারী বন্দর

কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌবন্দরের ব্রহ্মপুত্র নদে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে নোঙর ফেলে রেখেছে হাউজ বোট। মূলত শৌখিন ভ্রমণ বা প্রমোদ ভ্রমণের কাজে ব্যবহৃত এসব নৌযান কোনো প্রকার রুট পার্মিট বা বৈধ অনুমতি ছাড়াই বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখল করে রাখছে এবং রমরমা ভ্রমণ ব্যবসা করছেন। কিন্তু রহস্যজনক ভাবে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের নীরবতা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

প্রমোদ ভ্রমণের কাজে ব্যবহৃত হাউজবোট 'মাস্তুলটি' চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে চিলমারী নদীবন্দরে রমনাঘাটে অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন থেকে বন্দর এলাকায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বৈধ অনুমতি নেননি বোট কর্তৃপক্ষ। এতে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছেন।

​সরেজমিনে দেখা যায়, চিলমারী-রমনা ঘাট ও এর আশপাশের এলাকায় হাউজবোট টি অবস্থান করছে। স্থানীয়রা জানান, এ নৌযান ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য রাখা হয়েছে। এতে তারা ভ্রমনের কাজে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জন করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘাট কর্তৃপক্ষের এক ব্যক্তি জানান, বিআইডব্লিটিএ হাউজবোট মাস্তুলকে ঘাটে থাকতে দিয়েছে। কিন্তু এখানে থাকার রুট পার্মিট নাই। অবৈধ যানকে বন্দরে জায়গা দিয়ে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ কত টাকার সুবিধা নিচ্ছে? এছাড়াও মাস্তুলে নিয়মিত মদের আসর বসে, গাঞ্জারো আসর বসানো হয়।

সচেতন মহল বলছেন, ​চিলমারী নৌবন্দরকে যখন সরকার আধুনিকায়নের চেষ্টা করছে, তখন এ ধরণের অনিয়ম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সৌন্দর্য নষ্ট করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এসব অবৈধ হাউজবোট মাস্তুল উচ্ছেদ করা হোক এবং বন্দরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিআইডব্লিউটিএ’র কঠোর নজরদারি বাড়ানো হোক।

হাউজবোট 'মাস্তুলের' মালিক শাকিব জানান, রুট পার্মিট না থাকলেও পোর্ট অফিসারের সাথে কথা বলে একটি আবেদন জমা দেয়া আছে। সেটি ভিত্তি করে তারা বন্দরে অবস্থান করছেন বলে জানান।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম স্বপন জানান, যদি হাউজবোট আইন অনুযায়ী বৈধভাবে চলে তাহলে আমরা সহযোগিতা করব, কিন্তু অবৈধ প্রক্রিয়ায় চলে তাহলে তো মেনে নেয়া যায় না। তাই সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করছি।

চিলমারী নৌপুলিশ ফাঁড়ির আইসি গোলাম মওলা শাহ জানান, আমি জানতাম না পরে একদিন দেখলাম বন্দরে। এরপর তাদের কাগজপত্র নিয়ে ডেকেছি। আপনাকে কাল বিস্তারিত জানাতে পারব।

চিলমারী নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, হাউজবোটের কোনো বৈধ রুট পার্মিট নেই। কিন্তু তাদের একটি আবেদন জমা আছে। আমি তাদের ডাক দিয়ে কথা বলব। আর আমি সব কিছুই (কাগজপত্র) দেখছি ওরা জাস্ট বলছে ঈদের আগেই চলে যাবে। রুট পার্মিটের কথা বলছিলাম, কিন্তু তারা ১৫/২০ দিনের জন্য না করে আগামীতে করার কথা জানান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন