

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দুই কর্মকতার কাছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে চাঁদা নিতে গিয়ে আব্দুর রফ নামের কথিত এক সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। আব্দুর রফ শহরের মল্লিক পাড়ার মৃত জমির উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। সে বিভিন্ন সরকারী অফিসে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে চাঁদাদাবী করে আসার অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার সকাল ১১ টার দিকে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে এঘটনা ঘটে। সকালে প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন ও পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা নিতে গেলে অফিসের লোকজন তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে আসে।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন জানান, রমজান মাসের শুরু থেকে তাকে ও অফিসের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেনের কাছে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয়ে মুঠোফোনে কল সহ হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিলো। আজ সকালে অফিসে এসে সেই টাকা দাবী করে। এ সময় অফিসের অন্যান্য স্টাফরা চাঁদা দাবির অভিযোগে আটক করে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে আব্দুর রফকে আটক করে থানায় নেয়।
মেহেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ন কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আব্দুর রউফ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে চাঁদা দাবীর অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে সদর থানায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঞ্জুমান আরা বলেন, আমি যখন অফিসে থাকি না সেই সময়টা বেছে নিয়েই এই আব্দুর রউফ বারবার আমার অফিসে আসে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার অফিসের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। একই সাথে আমি লিখিত আবেদন করবো সরকারি কাজে বাধাদানের কারণে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।
পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন আব্দুর রউফ। গত বছর গাংনী উপজেলায় চাঁদা আদায়ের চেষ্টাকালে তিনি গণধোলাইয়ের শিকার হন এবং ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়, কয়েক মাস কারাগারেও ছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল মেহেরপুর সদর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামে এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করলে, তখন সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অপরাধে অতীতে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডের মুখে পড়েছিলেন এই আব্দুর রউফ।
মন্তব্য করুন