

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রেজিস্ট্রারকে তাঁর দপ্তরে অবরুদ্ধ রেখে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে ‘বিধি বহির্ভূতভাবে পদোন্নতি সংক্রান্ত চিঠি পাঠাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, চাপ ও পেশিশক্তির হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁকে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম এ অভিযোগকে ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
গত ৯ মার্চ উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়াই রাষ্ট্রপতির কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম-এর পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ১০ মার্চ রেজিস্ট্রারের কাছে ব্যাখ্যা চান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। একদিন পরে রেজিস্ট্রার লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন।
রেজিস্ট্রার তাঁর ব্যাখ্যায় জানান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের অধ্যাপক পদে ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতির বিষয়ে বাছাই বোর্ডের সুপারিশ ছিল। তবে রিজেন্ট বোর্ডের সব সদস্য একমত না হওয়ায় বিষয়টি অনুমোদন পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এমন ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিষয়টি রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানোর বিধান রয়েছে। রেজিস্ট্রার দাবি করেন, এ অবস্থায় ড. সাইফুল ইসলাম নিজ উদ্যোগে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন পাঠানোর উদ্যোগ নেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে রেজিস্ট্রারের দপ্তরে এসে আবেদনপত্রে রেজিস্ট্রার হিসেবে স্বাক্ষর করতে বলেন। উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়া তা সম্ভব নয় জানালে তাঁকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ রেখে দরজায় তালাবদ্ধ প্রদানের হুমকি দেওয়া হয়।
লিখিত ব্যাখ্যায় রেজিস্ট্রার আরও বলেন, স্বাক্ষর না করলে তাঁকে পদত্যাগ করতে চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে তাঁর টেবিলে আঘাত করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সম্মানহানির আশঙ্কায় তিনি ভীত হয়ে পড়েন। শেষ পর্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার আশঙ্কায় অনিচ্ছাসত্ত্বেও তিনি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “যা যা ঘটেছে, সবকিছুই লিখিত ব্যাখ্যার মাধ্যমে উপাচার্যকে জানিয়েছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁর পদোন্নতির বিষয়ে বাছাই বোর্ডের সুপারিশ থাকলেও উপাচার্যের ষড়যন্ত্রে রিজেন্ট বোর্ডে তা অনুমোদন পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানোর বিধান থাকলেও উপাচার্য তিন মাসেও তা করেননি। এতে তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
রেজিস্ট্রারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, ভিসি কার্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালালের স্বাক্ষর স্ক্যান করে রেজিস্ট্রারকে ব্যাখ্যা তলবের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শাহজালাল বলেন, তিনি তখন ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন। তবে উপাচার্য চিঠির বিষয়বস্তু ও স্বাক্ষরের বিষয়ে তাঁকে আগেই অবহিত করেছিলেন। চিঠিতে অফিসিয়াল স্মারক নম্বর রয়েছে এবং চাকরির শৃঙ্খলাবিধান অনুযায়ী তিনি উপাচার্যের নির্দেশ মানতে বাধ্য।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
মন্তব্য করুন