শনিবার
০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরিণ ধরে কারাগারে স্বামী, ডিভোর্স দিয়ে ঘর ছাড়লেন স্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

বরগুনার পাথরঘাটা পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হানিফা মিয়া (৪৫)’র শখ ছিল বনের হরিণ ধরা। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যে শেষমেশ নিজের ‘ঘর’ হারাতে হবে, তা হয়তো কল্পনাও করেননি তিনি। গত কয়েক দিনের নাটকীয়তায় উপজেলায় এখন মুখরোচক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে হানিফা মিয়ার জেলে যাওয়া ও ‘স্ত্রীকে হারানোর গল্প।

হানিফা মিয়ার পেশা ছিল বনের হরিণ চুরি করে লোকচক্ষুর আড়ালে মাংস বিক্রি করা।

তার এই ‘দুঃসাহসিক’ পেশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে ছিলেন তাঁর শ্যালক মো. জহিুরুল ইসলাম। বেচারা বনবিভাগ পাথরঘাটা অফিসের মালি। দুলাভাই বনে যান হরিণ চুরি করতে, আর শ্যালক বনে সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে। পারিবারিক এই ‘চোর-পুলিশ’ খেলায় লজ্জিত হানিফার স্ত্রী শাহিনুর বেগম।

স্ত্রীসহ পরিবার বারবার বারণ করলেও হানিফা ছিলেন নাছোড়বান্দা। তার যুক্তি ছিল বনের হরিণ তো আর কারো পোষা নয়!

গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুটি ফুটফুটে হরিণসহ কোস্টগার্ড ও বনবিভাগের যৌথ অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়েন হানিফা। মামলা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। পাথরঘাটার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.পনির শেখ হানিফাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে আরো তিন মাসের জেল দেওয়া হয় তাকে।

হানিফা যখন জেলখানায় নিজের শিকারি জীবনের হিসেব মেলাচ্ছেন, তখন বাইরে তার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী শাহিনুর বেগম নিলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এক সময় জনপ্রতিনিধি হওয়ার আশায় ছিলেন পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী। স্বামীর এই অপরাধ আর ভাইয়ের অফিসের সামনে লজ্জায় মঙ্গলবার তিনি সোজা হাজির হন কাজি অফিসে। ক্ষোভ আর অভিমানে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন ৪০ বছর বয়সী শাহিনুর।

তালাকের সেই অনুলিপি এখন পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের দপ্তরে জমা পড়েছে। হানিফা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে। পাথরঘাটার চায়ের দোকানে এখন একটাই রসিকতা হানিফা মিয়া বনের হরিণ ধরতে গিয়ে ঘরের লক্ষ্মী হারিয়েছেন। জবাই করা বনের হরিণ আদালতের আদেশে দেওয়া হলো মাটি চাপা, কিন্তু হানিফার সংসার আর আগের জায়গায় ফিরছে না।

মাহিনুরের ছোট ভাই, বনবিভাগের মালি মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভগ্নিপতি হানিফার হরিণ চুরির কারণে সবসময় আমি হীনম্মন্যতায় ভুগতাম।’

পাথরঘাটার পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক শফিুল ইসলাম খোকন দুঃখ করে বলেন, যেদিন হরিণ ধরা পড়ে, সেই দিনটি ছিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দিবস। খুব কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু ওই নারীর সাহসিকতায় আমি আবার প্রাণ ফিরে পেলাম। স্যালুট শাহিনুর বেগমকে।

বর্তমানে হানিফা মিয়া জেলে বসে হরিণের বদলে জেলের ডাল-ভাতের স্বাদ নিচ্ছেন। হয়তো ভাবছেন হরিণের মাংসের চেয়ে শাশুড়ির হাতের সাধারণ ঝোল ভাতই ঢের ভালো ছিল।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন