

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে তরুণদের কর্মসংস্থানের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হয়ে ওঠা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান চালডাল সাম্প্রতিক আর্থিক সংকটে অচলাবস্থার মুখে পড়লেও কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে আবারও সচল হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর যশোর হাইটেক পার্কে কর্মরত কর্মীরা বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) থেকে পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছেন।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর সেবা, দ্রুত ডেলিভারি নেটওয়ার্ক এবং তরুণ কর্মী বাহিনী নিয়ে যাত্রা শুরু করা চালডাল দেশের ই–কমার্স খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। অনলাইন ভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে অবদান রাখছে।
২০১৯ সালে যশোরে চালডালের কার্যক্রম শুরু হয়। যশোর হাইটেক পার্কে অফিস স্থাপনের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের হেড অব মার্কেটিং লুসবুন উদিতি। তিনি জানান, ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি দুই সহকর্মীকে নিয়ে যশোরে কল সেন্টার স্থাপনের কাজ শুরু করেন তারা। ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়েই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
অসংখ্য প্রার্থীর সাক্ষাৎকার শেষে ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ২৮ জন তরুণকে নিয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে ঢাকার ম্যাপ শিখিয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে হলেও প্রথম দিনেই ১৩ হাজার টাকার বিক্রি করতে সক্ষম হয় সেই দল। এতে যশোরে কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়।
টেলিসেলস টিম দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রম পরে কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটিং, অ্যানালিটিক্স ও ডাটা সায়েন্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে বিস্তৃত হয়। বর্তমানে যশোর হাইটেক পার্কের ১২ ও ১৪ তলায় পরিচালিত এই অফিসে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৬০০ জনে পৌঁছেছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার যশোরবাসীর কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
এখানে উচ্চ মাধ্যমিক, ডিপ্লোমা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অনেক শিক্ষার্থী পার্ট-টাইম ও ফুল-টাইম কাজের সুযোগ পেয়েছে। অনেকেই এই আয়ের মাধ্যমে নিজের পড়াশোনার খরচ বহন করার পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করতে পেরেছে। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাও অর্জন করছে তারা।
চালডাল কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। কাস্টমার সার্ভিস, কমিউনিকেশন স্কিল, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন, অপারেশন, ডেটা অ্যানালাইসিস, মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, টেলিসেলস মার্কেটিং, এআই অটোমেশন ও নেতৃত্ব বিকাশের মতো বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণের বাজারমূল্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় ৯ কোটি টাকার সমমূল্যের প্রশিক্ষণ কর্মীদের প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া টানা ছয় মাস সফলভাবে কাজ করার পর কর্মীদের জব এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করা হয়, যা বাস্তব ক্ষেত্রে একটি ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটের সমমানের অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অনেক কর্মী দেশ-বিদেশে ভালো চাকরির সুযোগও পেয়েছেন।
তবে গত দেড় বছর ধরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটি তারল্য সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রভাব কর্মীদের বেতনের ওপরও পড়ে। বেতন বকেয়া থাকায় যশোর হাইটেক পার্কে কর্মরত কর্মীরা কর্মবিরতিতে গেলে অফিস কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
পরে কোম্পানির কর্তৃপক্ষ কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে। এ সময় এক মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয় এবং চলতি মাসের মধ্যেই আরও এক মাসের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এতে আশ্বস্ত হয়ে কর্মীরা পুনরায় কাজে ফিরেছেন।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চালডাল পিএলসি’র চিফ অপারেটিং অফিসার মাহবুব এম এম মুনতাসিন, হেড অব মার্কেটিং লুসবুন উদিতি, যুগ্ম পরিচালক শাহাদত হোসেন এবং যুগ্ম পরিচালক আজিজুর রহমান।
চালডাল কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও স্বাভাবিক গতিতে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে এবং যশোরের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের এই সুযোগ অব্যাহত থাকবে।
এ অচলাবস্থা নিরসনে সহায়তার জন্য হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এবং সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মন্তব্য করুন