

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বঙ্গোপসাগরে গভীরে মাছ ধরার সময় অবৈধ কাঠের ট্রলিংকে কেন্দ্র করে একটি ফিশিং ট্রলারে হামলা ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই জেলে নিখোঁজ এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়েছেন আহত জেলেরা।
এর আগে বুধবার দিবাগতরাত আনুমানিক ৮টার দিকে মাঝি মনির আকনের মালিকানাধীন এফবি মায়ের দোয়া ট্রলারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবি ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিখোঁজ জেলে জসিম চরদুয়ানী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানী এলাকার বেলায়েত গাজীর ছেলে এবং হিরু বয়াতী একই ইউনিয়নের দক্ষিন জ্ঞানপাড়া এলাকার আজীজ বয়াতীর ছেলে।
আহত মাঝি মনির আকন জানান, তারা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় এফবি মুন্না নামের অবৈধ কাঠের তৈরি ট্রলিং তাদের জালের ওপর উঠে যায়। বাধা দিলে হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।
তিনি বলেন, আমরা ট্রলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও তিনটি ট্রলিং আমাদের ঘিরে ফেলে। পরে তারা ট্রলারে উঠে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। হামলার একপর্যায়ে ট্রলারে থাকা জেলে জসিম ও হিরু প্রাণভয়ে সাগরে ঝাঁপ দেন। মাঝি মনির আকন নিজেও পানিতে পড়ে যান। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর তিনি ট্রলারে উঠে দেখেন পাঁচজন জেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন এবং অপর দুই জেলেকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তারা ট্রলারের জালও কেটে নিয়ে যায়। এ সময় ট্রলারে মোট ১৪ জন জেলের মধ্যে ১২ জন উপস্থিত ছিলেন।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান দোলন জানান, তিনজন জেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুজনকে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অপরজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বুধবার দিবাগত রাত আটটার দিকে এফবি মায়ের দোয়া নামের একটি ট্রলারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুনেছি বাগেরহাটের দুটি অবৈধ কাঠের ট্রলিং এ হামলা করেছে। সাগরে অবৈধ ট্রলারের মানুষজন যদি নিরীহ জেলেদের উপর হামলা করে সব লুটে নিয়ে যায়, তবে জেলেদের নিরাপত্তা কোথায়? যে ট্রলার দুটিতে হামলা করেছে ওই টলারের নাম চিহ্নিত করে রেখেছে আহত জেলেরা। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি এবং সমুদ্রে নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মন্তব্য করুন