

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাড়িজুড়ে তখন বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। গায়ে হলুদের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের আসা–যাওয়া, নতুন স্বপ্নে বিভোর একটি পরিবার। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তেই নেমে এলো অপ্রত্যাশিত শোকের ছায়া। গরুর দুধ দোহন করতে গিয়ে গোয়ালঘরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন দীপিকা সানা (৩৫)।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে প্রতিদিনের মতোই গোয়ালঘরে যান দীপিকা। সেখানে বৈদ্যুতিক লাইনের লিকেজ থেকে হঠাৎ বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কৃষক দেবাশীষ সানার স্ত্রী দীপিকার দ্বিতীয় সন্তান অর্পিতা সানার (১৮) বিয়ে ঠিক হয়েছিল। বাড়িতে চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিজের হাতে ঘর গুছিয়ে, আয়োজন সামলে মেয়ের নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিয়ের আনন্দের বাড়ি পরিণত হয় শোকের বাড়িতে।
খাজরা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দীপিকার অকাল মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীপিকা-দেবাশীষ দম্পতির তিন সন্তান—অভীক সানা (১৯), অর্পিতা সানা (১৮) ও অর্ণব সানা (৯)। সন্তানদের পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নই ছিল এই দম্পতির জীবনের মূল লক্ষ্য। এলাকাবাসীর মতে, সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজ হাতে সামলে সন্তানদের মানুষ করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন দীপিকা।
আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামীম আহমেদ খান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন