

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে কম্প্রেসার মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস পায়ুপথে প্রবেশ করিয়ে কিশোর শ্রমিক সজিব শরীফকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রিহাত শেখ ওরফে হাকিম (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
এ ঘটনার পর আত্মগোপনে থাকা আসামিকে মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে র্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম জানান, মামলা রুজুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের নৃশংস ও অমানবিক অপরাধের বিরুদ্ধে র্যাব জিরো টলারেন্স”
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা গ্রামে অবস্থিত আকিজ-বশির জনতা জুট মিলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সজিব শরীফ (১৫) পাশের দাদপুর ইউনিয়নের বাড়ৈপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল শরীফের ছেলে। সে ওই মিলের স্পিনিং বিভাগে হেলপার হিসেবে কর্মরত।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজ শেষে শরীরে লেগে থাকা পাটের আঁশ পরিষ্কার করতে সজিব কম্প্রেসার মেশিনের হাওয়ার পাইপ ব্যবহার করছিল। এ সময় সহকর্মী রিহাত শেখ ও তার এক সহযোগী মিলে মেশিনের উচ্চচাপের বাতাস তার পায়ুপথে প্রবেশ করায়। সঙ্গে সঙ্গে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সে অচেতন হয়ে পড়ে।
তাকে প্রথমে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, অতিরিক্ত চাপের ফলে তার অন্ত্র একাধিক স্থানে ছিদ্র হয়ে যায়; অস্ত্রোপচার করেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বৃহস্পতিবার সকালে বোয়ালমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১৭, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
র্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে ছিল। র্যাব-১০ এর সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরা জেলার শ্রীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করেছে।
নিহতের ভাবি নুরজাহান বেগম বলেন, “আমার দেবর খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। কাজ করতে গিয়ে এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হবে, তা কখনও ভাবিনি।”
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে তদারকি ও কিশোর শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
র্যা ফরিদপুর ক্যাম্পের স্কোয়াড্রন লিডার তারিকুল ইসলাম বলেন, “হত্যা, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে র্যাব নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ”
মন্তব্য করুন
