মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিবচরে তোপের মুখে যোগদান না করেই ফিরে গেলেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা​

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
যোগদান না করেই ফিরে গেলেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা​
expand
যোগদান না করেই ফিরে গেলেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা​

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. সুজন সাহার যোগদান কার্যক্রম ছাত্র-জনতা ও স্টাফদের বাধার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে তিনি কর্মস্থলে যোগ দিতে এলে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের মধ্যস্থতায় হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

​জানা গেছে, ডা. সুজন সাহা ইতিপূর্বে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত থাকাকালীন সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। এই খবর জানাজানি হলে শিবচরের স্থানীয় বাসিন্দারা তার নিয়োগের প্রতিবাদে গত তিন দিন ধরে মানববন্ধন করে আসছিলেন।

এছাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরাও তার যোগদানের বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।​আন্দোলনকারীদের দাবি, ডা. সুজন সাহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে তিনি কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে মোটরসাইকেল বহরসহ হাসপাতালে প্রবেশ করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালের স্টাফ ও স্থানীয় জনতা প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে তিনি যোগদান না করেই চলে যান।

​ইসলামী আন্দোলন শিবচর শাখার সভাপতি হাফেজ জাফর আহমাদ বলেন, "ডা. সুজন সাহা সাবেক কর্মস্থলে নানা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত। আজ তিনি যেভাবে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে স্টাফদের সঙ্গে আচরণ করেছেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"

​শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য শামিম আহসান চৌধুরী বলেন, "উনার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তিনি আজ যেভাবে মস্তানি স্টাইলে হাসপাতালে ঢুকেছেন, তাতে স্থানীয় মানুষ ও স্টাফরা শঙ্কিত। এমন বিতর্কিত কাউকে আমরা এই হাসপাতালে গ্রহণ করব না।"

​অভিযোগের বিষয়ে ডা. সুজন সাহা বলেন, "আমি সরকারি আদেশে নিয়ম অনুযায়ী যোগদান করতে এসেছিলাম। হাসপাতালের কারো সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তবে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হলো তা আমি বুঝতে পারছি না।"

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X