

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমতলীতে পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে হত্যা করে পরে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুজন মৃধার বিরুদ্ধে। নিহত গৃহবধূ তানজিলা আক্তার অ্যানির (২৬) পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত ৯ টার দিক আমতলী পৌর শহরের আব্দুল্লাহ সুপার মার্কেটের পেছনে হানিফ কটেজের তৃতীয় তলায় স্বামী সুজন মৃধার ভাড়া বাসা থেকে অ্যানির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সোমবার দুপুরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় স্বামী সুজন মৃধাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
নিহতের মা আফরোজা আক্তার রিনা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে বেধড়ক মারধরের পর হত্যা করা হয়েছে। এরপর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে সুজন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে আমতলী উপজেলার চিলা গ্রামের মৃত জলিল গাজীর মেয়ে তানজিলা আক্তার অ্যানির সঙ্গে একই উপজেলার ছুরিকাটা গ্রামের সোবাহান মৃধার ছেলে সুজন মৃধার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের ছয় বছর ও দুই বছরের দুইটি সন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুজন মৃধার সঙ্গে নীলগঞ্জ গ্রামের সাবিনা নামের এক নারীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে গত এক বছর ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। শনিবার সকালে অ্যানি তার মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে ওই সুযোগে সুজন তার প্রেমিকা সাবিনাকে বাসায় নিয়ে আসে। রাতে অ্যানি বাসায় ফিরে দরজা খুলতে বললেও দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় তার সন্দেহ হয়। পরে ঘরে ঢুকে বিছানার ওপর অপরিচিত চাদর এবং বারান্দায় সাবিনা নামের ওই নারীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে অ্যানি নিশ্চিত হন বিষয়টি নিয়ে। এ ঘটনায় ওই রাতেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়।
নিহতের মা আরও বলেন, রোববার দুপুরে সুজন আমার মেয়েকে নির্মমভাবে মারধর করে। মারধরের পর অ্যানি আমাকে ফোনে সব ঘটনা জানায়। কিছুক্ষণ পরই খবর পাই আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।
রাতে পুলিশ ঘরের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় অ্যানির মরদেহ উদ্ধার করে। তবে মরদেহের পা ঘরের ফ্লোরে লাগানো ছিল বলে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নিহতের শরীরে আঘাতের একাধিক চিহ্ন পাওয়া গেছে। নিহতের খালা ফরিদা বেগম বলেন, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। পরে ঘটনা আড়াল করতে নাটক সাজানো হয়েছে।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বামী সুজন মৃধাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
