

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা মনিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাবুল প্যাদার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাঁর পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে তারা মামলার প্রধান আসামি রুবেল প্যাদার ফাঁসির দাবিও জানান।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বাবুল প্যাদাকে নির্দোষ দাবি করে তাঁর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বাবুল প্যাদার স্ত্রী মোছা. ইসমতআরা বেগম বলেন, প্রায় ১০ বছর আগে পাঁচ সন্তানকে স্বামীর কাছে রেখে তিনি প্রবাসে যান। তখন নিহত আয়শার বয়স ছিল মাত্র নয় মাস। এরপর থেকে তাঁর স্বামী একাই সন্তানদের লালন-পালন করেছেন। তিনি বলেন, “আমার স্বামী যদি খুনি হতেন, তাহলে নিজেই ঘটনা ঘটাতে পারতেন। অন্য কারও সঙ্গে পরিকল্পনা করে সন্তানকে হত্যার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমার স্বামী সম্পূর্ণ নির্দোষ।”
নিহত আয়শার বড় বোন এবং মামলার বাদী সাথী বেগম বলেন, তাঁর ছোট বোন হত্যার ঘটনায় প্রতিবেশী রুবেল প্যাদাকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এজাহারে আরও তিন থেকে চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। কিন্তু তদন্তের শুরুতেই পুলিশ তাঁর নির্দোষ বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাথী বেগম বলেন, “আমার বাবা নির্দোষ। আমি তাঁর মুক্তি চাই।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আজিজ মাহমুদ ও যুবদল নেতা বিপ্লব তালুকদার। তাঁরা বলেন, ১১ বছরের শিশুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া রুবেল প্যাদা কারাগারে থাকা অবস্থায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অথচ সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির বাবাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি রাঙ্গাবালী উপজেলার একটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে নিখোঁজ হয় ১১ বছরের ওই শিশু। পরে বস্তাবন্দী অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ৫ জানুয়ারি প্রতিবেশী রুবেল প্যাদা (৩২)কে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি শিশুটির বাবা বাবুল প্যাদাকে হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। এর পরদিন ৬ জানুয়ারি রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বাবুল প্যাদাকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে দুজনই পটুয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করা ভুক্তভোগী পরিবারের নাগরিক অধিকার। তবে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি রুবেল প্যাদার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই নিহত শিশুর বাবা বাবুল প্যাদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে কে দোষী আর কে নির্দোষ, তা স্পষ্ট হবে।”
মন্তব্য করুন
