

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নিজ ঘর থেকে তিন সন্তানের জননীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহত নারীর স্বামী পলাতক থাকায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের বানিয়ারভিটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম মহিমা বেগম (৪৫)। তিনি ওই গ্রামের শহিদুল ইসলাম বাবলুর স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার দিবাগত রাতে আনুমানিক রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় মহিমা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হত্যার পর তাঁর মরদেহ ঘরের ভেতরের বিছানায় ফেলে রেখে দুর্বৃত্তরা চলে যায়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে মহিমা বেগমের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম বাবলুকে ঘরে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, নিহত নারীর গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। মহিমা বেগম তিন সন্তানের জননী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রকাশ্য কোনো বিরোধ ছিল না। তাঁরা দুজনেই মাছের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পারিবারিকভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন বলে জানান প্রতিবেশীরা। তবে ঘটনার পর থেকেই স্বামীর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে। আবার অনেকেই মনে করছেন, ঘটনার সঙ্গে নিহত নারীর স্বামীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, 'মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিহত নারীর স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের আগে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।' এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন
