

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির মামলায় ৪ মাস পলাতক থাকার পর অবশেষে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ জানুয়ারি) তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাদেকুর রহমান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর গ্রামে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তার নিজ বাসায় ওই ছাত্রী ও তার ভাইকে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন। একপর্যায়ে ছাত্রীর ভাইকে দোকানে পাঠিয়ে একা পেয়ে ছাত্রীটিকে যৌন হয়রানি করেন তিনি।
ঘটনার পর বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করে তার মায়ের কাছে সব খুলে বলে। পরে ওই রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে রায়পুর থানায় প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আবদুর রহিম (৪০) উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের চরমোহড়া গ্রামের মৃত সেকান্তর বেপারীর ছেলে।
তিনি রায়পুর ইউনিয়নের চালতাতুলি এলাকার বেগম রোকেয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি বিবাহিত এবং দ্বিতীয় স্ত্রীসহ তার দুই সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহির বলেন, প্রধান শিক্ষক তার প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতেন বলে আমরা অভিযোগ পাই। ঘটনার সত্যতা পেয়ে আটকের চেষ্টা করলে তিনি পালিয়ে যান। এমনকি কয়েকটি ঘটনার প্রমাণ হিসেবে মোবাইলে এভিডেন্সও রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে আমাদের আগের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। একটি মহল আমাকে ষড়যন্ত্রের শিকার করেছে।
এদিকে অভিযুক্তের স্ত্রী দাবি করেন, আমি পাঁচ বছর ধরে তার সঙ্গে সংসার করছি। এমন কোনো আচরণ আমি কখনো দেখিনি।
রায়পুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মান্নান জানান, ঘটনার পরপরই শিশুটির মা মামলা করেন এবং মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। রোববার অভিযুক্ত আদালতে হাজিরা দিলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।
মন্তব্য করুন
