

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলা নিয়ে গঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উত্তর-পশ্চিম রিজিওন।
এরমধ্যে রংপুর রেজিওনের সীমান্ত এলাকায় ডিসেম্বর মাসের অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
এ সময় ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র উদ্ধার, গবাদিপশু উদ্ধার এবং মানব পাচার প্রতিরোধে করেছে বিজিবি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবির একটি হলরুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক।
তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিম রিজিওনের আওতাধীন রংপুর রেজিওনের সীমান্ত এলাকার গত এক মাসের (ডিসেম্বর) বিজিবি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাফল্য পেয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনকল্যাণে উত্তর-পশ্চিম রিজিওনের ইউনিটগুলো পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
গত এক মাসের (ডিসেম্বর) বিজিবি রংপুর রেজিওনের এই সাফল্যের চিত্র সাংবাদিকদের অবগত করতে বিভাগীয় প্রেস ব্রিফিং কুড়িগ্রামে হচ্ছে। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব-উল-হক বলেন, উত্তর-পশ্চিম রিজিওনের আওতাধীন রংপুর রেজিওন প্রায় ১ হাজার ৬৬৮ দশমিক ৮৫৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় নিয়োজিত সেক্টর ও অধীনস্থ ব্যাটালিয়নগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযানে এসব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
অভিযানে আনুমানিক ৭ কোটি ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার ৪৮৯ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ফেনসিডিল ৬৯১ বোতল, বিদেশি মদ ৯৬১ বোতল, ইয়াবা ৩ হাজার ৬৩৪ পিস, গাঁজা ১৪০ দশমিক ১৫ কেজি, বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় সিরাপ ২৬ হাজার ২৬৫ বোতল, স্কাফ সিরাপ ৩ হাজার ১১৫ বোতল, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ২৬ হাজার ৮০৮ পিস, নেশাজাতীয় ইনজেকশন ২ হাজার ২৩৫ পিস, হেরোইন ৩০৪ গ্রাম এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ৫৫ হাজার ৩২৪ পিস। এ ছাড়া সীমান্ত অপরাধ দমনে পরিচালিত অভিযানে ২৯ রাউন্ড গুলিসহ ৬টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাচালানবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৯৭টি গবাদিপশু। এর মধ্যে ১৬৪টি গরু ও ৩৩টি মহিষ। পাশাপাশি জিরা, মোটরসাইকেল, কসমেটিকস, কীটনাশক, কাপড়, বাইসাইকেল ও কষ্টিপাথরসহ বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিসেম্বর মাসে পাচারের ঝুঁকিতে থাকা ১৫ জনকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ৩ জন নারী। একই সঙ্গে জাল টাকা পাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত টহল, বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিসেম্বর মাসে ১ হাজার ১২৫ জন দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১ হাজার ১০০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় জনসচেতনতা বাড়াতে ২ হাজার ৫৬৩টি সভা আয়োজন করা হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি রাজু মোস্তাফিজ, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক, কুড়িগ্রাম ২২ বিজিবির বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
