মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পায়রা নদীর চরে তরমুজ চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০১ পিএম
পায়রা নদীর চরে তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা
expand
পায়রা নদীর চরে তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা

বরগুনার তালতলী উপজেলার চরপাড়া গ্রামটি পায়রা নদী ঘেঁষে অবস্থিত। নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চরে শত শত একর জমিতে শুরু হয়েছে তরমুজ চাষ। নদীর বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরজমি এ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।

চলতি মৌসুমে সেই চরজমিতে ব্যাপক আকারে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা। চলছে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের উত্তর চরপাড়া এলাকায় পায়রা নদীর পাড় ঘেঁষে বিস্তীর্ণ চরজমি জুড়ে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি চলছে।

কোথাও সার প্রয়োগ করা হচ্ছে, আবার অনেক কৃষক ইতিমধ্যেই তরমুজের চারা রোপণ শেষ করেছেন। চরজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ত পদচারণা চোখে পড়ার মতো।

স্থানীয় কৃষক শ্যামল চন্দ্র ঘরামী জানান, তিনি চলতি মৌসুমে সাড়ে ৭ একর জমিতে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। এতে তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানান। শ্যামল চন্দ্র বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা বা সুযোগ-সুবিধা পাইনি।

নিজের সঞ্চয় ও ধার করা টাকায় চাষ শুরু করেছি। যারা আগে তরমুজ চাষ করেছে, তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে কাজ করছি।

আরেক কৃষক সুজন সাহা হাওলাদার বলেন, তরমুজ চাষ লাভজনক হলেও ঝুঁকিও কম নয়। তিনি বলেন, এই চাষটা অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভ হয়, আর একটু সমস্যা হলে সব শেষ। অনেক কৃষক এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষে নেমেছেন। ফলন ভালো না হলে সেই ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

তরমুজ চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরপাড়া ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ পায়রা নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চরে প্রায় আড়াইশ একর জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করেছেন।

অধিকাংশ জমিই নদীর চর হওয়ায় এসব জমিতে ধান বা অন্যান্য ফসল চাষ করা কঠিন হলেও তরমুজ চাষ তুলনামূলকভাবে সহজ হওয়ায় কৃষকেরা ঝুঁকছেন এই ফসলে।

তবে চাষিদের অভিযোগ, তরমুজ চাষে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। অনেক কৃষক সঠিক জ্ঞান ছাড়াই চাষ শুরু করেন, যার ফলে পরে রোগবালাই, সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনায় সমস্যায় পড়তে হয়। এতে খরচ বেড়ে যায় এবং আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না।

একাধিক কৃষক বলেন, তরমুজ চাষের জন্য আলাদা করে প্রশিক্ষণ, উন্নত জাতের বীজ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি নদীভাঙন ও অকাল বন্যার ঝুঁকিও তাঁদের দুশ্চিন্তার কারণ।

স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই কম হলে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে ভালো ফলন হবে। এতে যেমন কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে, তেমনি চরজমির সদ্ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষ শুরু হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে যেসব সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব, তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সচেতন করতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, যাতে তারা কম ঝুঁকিতে ভালো ফলন পেতে পারেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X