মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ.লীগ নেতা এখন ওয়ার্ড জামায়াত আমির

কসবা ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা এখন ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির-এমন অভিযোগ ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগটি উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা এই ইউপি সদস্য সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওয়ার্ড আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মিজানুর রহমান তৎকালীন আইনমন্ত্রীর একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সে সময় তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন এবং নিজেকে দলের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি গত ১০/০৩/২০১৯ তারিখে অনুমোদিত সর্বশেষ খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে গত বছরের ৫ আগস্ট বিগত সরকারের পতনের পর সাম্প্রতিক সময়ে তাকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, অতীতের দোষ-ত্রুটি আড়াল করা এবং বিভিন্ন বিতর্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যেই তিনি সময় বুঝে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এ ঘটনায় খাড়েরা ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে খাড়েরা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি দলটির ছত্রছায়ায় থেকে নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের কুকর্ম আড়াল করতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আশিকুর রহমান বলেন, একসময় যিনি আওয়ামী লীগের মিটিং-মিছিলে সামনের কাতারে নেতৃত্ব দিতেন, আজ তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এটি আদর্শিক রাজনীতি নয়, বরং সুবিধাবাদী রাজনীতির নগ্ন উদাহরণ।

খাড়েরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব বাবুল মিয়া বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দুঃখজনক। রাজনীতি আদর্শের জায়গা হলেও এখানে আমরা আদর্শ নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।

এ বিষয়ে খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি শরীফ উদ্দিন জানান, মিজান মেম্বার প্রায় এক বছর ধরে খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি যে আগে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটির সদস্য ছিলেন—এ বিষয়টি তার জানা ছিল না।

এ বিষয়ে খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু আবদুল্লাহ ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মিজান আওয়ামী লীগের একজন প্রথম সারির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার কর্মকাণ্ডের কারণে কমিটির নেতৃবৃন্দ সুপারিশ করলে তখন কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এখন কেন তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন, সেটি তিনি নিজেই ভালো বলতে পারবেন।

খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কমিটির ১ নম্বর সদস্য ও তৎকালীন খাড়েরা ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ কবির আহাম্মদ ভূঁইয়া বলেন, মিজান সবসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিই করতেন। তখন কমিটিতে থাকার জন্য অনেক নেতা-কর্মী তদবির করতেন। তার সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকার কারণেই এবং তদবিরের মাধ্যমে কমিটিতে তার স্থান হয়েছিল।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি একজন ইউপি সদস্য। সে হিসেবে হয়তো আমাকে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাম দিয়ে রাখা হয়েছিল। যখন যে সরকার থাকে, সাধারণত তার সঙ্গেই থাকতে হয়। কে কখন আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে—এ বিষয়ে আমি অবগত নই।

এ প্রসঙ্গে কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী বলেন, ‘মিজান মেম্বার যে আগে আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন-এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ থাকলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X