

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসায় দেশটির প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফ্লোরিডার পাম বিচে অবস্থিত নিজের মার-এ-লাগো রিসোর্টে সপ্তাহান্ত কাটাতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরান সরকার আট শতাধিক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপকে আমি সম্মানের সঙ্গে দেখছি।”
এ বিষয়ে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে ৮০০-এর বেশি বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাতিল করা হয়েছে এবং এজন্য তিনি ইরানকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর কয়েক দিন আগেই ইরানে চলমান বিক্ষোভে ব্যাপক দমন–পীড়নের অভিযোগ উঠলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন ট্রাম্প। যদিও বর্তমানে সেই বিক্ষোভ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ইরানে আন্দোলন চলাকালে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়েছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে—মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতত পিছিয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামগ্রিক পরিস্থিতির সঙ্গে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মূল্যায়নের পুরোপুরি মিল না থাকলেও, এটি স্পষ্ট যে তিনি আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন।
এর আগে ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “সহায়তা আসছে।” তবে শুক্রবার সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, “দেখা যাক সামনে কী হয়।”
আরব ও ইসরায়েলি নেতাদের চাপে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, “কেউ আমাকে প্রভাবিত করেনি। সিদ্ধান্তটি আমি নিজেই নিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “গতকাল ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাউকে ফাঁসি দেওয়া হয়নি। এই সিদ্ধান্ত আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় প্রভাব ফেলেছে।”
তবে ইরান সরকারের কোন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এই তথ্য পেয়েছেন—সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু জানাননি। এদিকে সমালোচকেরা বলছেন, একদিকে ইরান মৃত্যুদণ্ড স্থগিত রাখলেও, অন্যদিকে কঠোর দমননীতি চালিয়ে আন্দোলন দমনের অভিযোগ এখনো রয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর দেশটির দুর্বল অর্থনীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে ধর্মীয় শাসনের বিরোধিতায় রূপ নেয়। বর্তমানে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনে বড় কোনো বিক্ষোভের খবর পাওয়া যায়নি, দোকানপাট ও জনজীবনও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে ইন্টারনেট সংযোগ এখনও সীমিত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ শুক্রবার জানায়, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৯৭ জনে পৌঁছেছে এবং এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অঙ্গীকার থেকে সরে আসবে না।
মন্তব্য করুন

