

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকির সুর অনেকটা নমনীয় করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে-এমন আশ্বাস পাওয়ার পর নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই। এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানবে তেহরান।’ খবর আল জাজিরার।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে এবং সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সংকট নিয়ে তার আগের কঠোর অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে আসার এটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
ট্রাম্প জানান, তিনি ‘বিভিন্ন পক্ষের খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি।
‘আমরা পর্যবেক্ষণের রাখবো প্রক্রিয়াটা কীভাবে এগোয়,’ বলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব ভালো একটি বিবৃতি’ পেয়েছে।
এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য কাতারের আল–উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু সেনা ও কর্মী প্রত্যাহার শুরু করেছে।
ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘ফাঁসি দেয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই। ফাঁসি প্রশ্নের বাইরে।’ তিনি দাবি করেন, সরকার পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর বলেন, ‘শত্রুর ভুল হিসাবের জবাব দিতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুত।’ তিনি ইন্ধনদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের বিক্ষোভের পেছনে দায়ী করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে পৌঁছালেও ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ সংখ্যা অনেক কম বলে দাবি করছে।
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানে টেলিযোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমালেও, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের শঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
মন্তব্য করুন
