

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রাণহানির সংখ্যা ৫৩৮ জনে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববার (১১ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরান ইতিমধ্যে রেড লাইন বা সীমা লঙ্ঘন করা শুরু করেছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে কয়েকটি ‘অত্যন্ত কঠিন বিকল্প’ তাঁদের বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র খুব শীঘ্রই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কড়া জবাব দিয়েছে ইরান সরকার। তেহরান গতকাল রোববার ওয়াশিংটনকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করেছে, ইরানি ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার পাল্টা আঘাত হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যদিও প্রতিবাদকে জনগণের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তবে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে ‘দাঙ্গাবাজদের’ সমাজ অস্থিতিশীল করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তারা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান চেয়ে রাজপথে অনড় রয়েছেন।
মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ২০২২ সালের পর ইরানের বৃহত্তম রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে গত ১৫ দিনে ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই সাধারণ বিক্ষোভকারী।
ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি এবং গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’ বলে ঘোষণা করছেন এবং অন্যদিকে তেহরান একে ‘বিদেশি চক্রান্ত’ হিসেবে বর্ণনা করে দমনে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন একটি যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র: এএফপি
মন্তব্য করুন

