

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইরানের উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল হামলা চালালে পুরো পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন স্থাপন করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
সোমবার (২৩ মার্চ) ইরানের ডিফেন্স কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানানো হয়।
রয়টার্স ও এপি জানিয়েছে, ইরান এই হুমকির মাধ্যমে উপসাগরীয় নৌপথকে সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জ লক্ষ্য করে শত্রুপক্ষ কোনো হামলার চেষ্টা করলে পারস্য উপসাগর ও উপকূলসংলগ্ন প্রবেশপথ এবং যোগাযোগপথে বিভিন্ন ধরনের নৌ-মাইন বসানো হবে।
তেহরানের দাবি, এর ফলে গোটা উপসাগর কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে এবং সেই পরিস্থিতির দায় বহন করতে হবে হুমকি দেওয়া দেশগুলোকেই।
ইরানি কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, যারা যুদ্ধের অংশ নয় বা নিজেদের শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে দেখায়, তাদের জন্যও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সহজ হবে না।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করতে হলে তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই নৌপথ পার হতে হবে। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, হরমুজকে কেন্দ্র করে ইরান কেবল সামরিক নয়, কূটনৈতিক চাপও বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
এই সতর্কবার্তা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সতর্ক করেছেন-প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হতে পারে। সেই সময়সীমা ঘনিয়ে আসতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান উপসাগরে মাইন পেতে দেওয়ার হুমকি সামনে আনল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের হুমকি বাস্তবে রূপ নিলে শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহও বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
কারণ, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর আন্তর্জাতিক তেলবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ।
ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম, শিপিং নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক-সবকিছুর ওপরই তার প্রভাব পড়তে পারে।
মন্তব্য করুন
