বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরিত্যক্ত গাড়ির বিরুদ্ধে ‘হাই স্পিডে’ চালানোর মামলা!

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

আশির দশকের সেই কুচকুচে কালো রঙের স্পোর্টস কারটির কথা মনে আছে? যার ড্যাশবোর্ডে থাকা কম্পিউটার কথা বলত চালকের সঙ্গে, আর দুর্ধর্ষ গতিতে মোকাবিলা করত অপরাধীদের। পর্দার সেই ‘নাইট রাইডার’ বাস্তবেও যে এমন কোনো ভেলকি দেখাবে, তা হয়তো কল্পনাও করেনি কেউ। কয়েক বছর ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি যদি হঠাৎ কয়েকশ মাইল দূরের কোনো ব্যস্ত সড়কে ঝড়ের বেগে ছুটে চলার দায়ে মামলার টোকেন হাতে পায়, তবে তাকে অতিপ্রাকৃত ঘটনা ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ভলো মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে বিখ্যাত টিভি সিরিজ ‘নাইট রাইডারের’ গাড়ি ‘কিটের’ একটি অবিকল প্রতিচ্ছবি বা রেপ্লিকা। গত কয়েক বছর ধরে এটি প্রদর্শনীর কক্ষ থেকে এক ইঞ্চিও নড়েনি। কিন্তু মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির ট্রাফিক বিভাগ থেকে ৫০ ডলারের একটি জরিমানার নোটিশ পেয়ে স্তম্ভিত হয়ে যায়। নোটিশে দাবি করা হয়, গত ২২ এপ্রিল ব্রুকলিনের একটি রাস্তায় গতিসীমা লঙ্ঘন করে গাড়িটি বেগে চলছিল।

ট্রাফিক ক্যামেরার ছবিতে দেখা গেছে, ব্রুকলিনের রাস্তায় আইন অমান্যকারী সেই কালো পন্টিয়াক ট্রান্স অ্যাম গাড়িটিতে ক্যালিফোর্নিয়ার ‘KNIGHT’ লেখা লাইসেন্স প্লেট লাগানো। কাকতালীয়ভাবে, জাদুঘরের প্রদর্শনীতে থাকা অচল গাড়িটিতেও শখের বশে একই নামের একটি শো-প্লেট লাগানো আছে। সিটির রেকর্ড বলছে, এই একই প্লেটের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে নিউইয়র্কে আরও পাঁচটি বকেয়া মামলা রয়েছে।

ভলো মিউজিয়ামের মার্কেটিং ডিরেক্টর জিম ওয়াজডিলা জানান, ইলিনয়ের বদ্ধ ঘরে থাকা গাড়ির নামে নিউইয়র্কের টিকেট আসাটা এক পরম রহস্য। তারা বর্তমানে এই জরিমানার বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। মজার ছলে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজে লিখেছে, ‘নাইট রাইডার কিটের’ নিবাস এখানে, যে ইলিনয়ের প্রদর্শনী থেকে কখনো বের না হয়েও নিউইয়র্ক সিটিতে টিকেট পাওয়ার জন্য বিখ্যাত হয়েছে!’ এমনকি তারা সিরিজের মূল অভিনেতা ডেভিড হাসেলহফের কাছেও কৌতুক করে এই জরিমানার টাকা দাবি করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার মোটর যান বিভাগের তথ্যমতে, ‘নাইট’ পদবির এক ব্যক্তি গত মার্চ মাসে এই বিশেষ প্লেটটি নবায়ন করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, পর্দার হিরোর মতোই কি কেউ বাস্তবে এই গাড়ি বানিয়ে আইন ফাঁকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন? আপাতত এই রহস্যের সমাধান পেতে মরিয়া মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এবং নিউইয়র্ক পুলিশ।

সূত্র : এপি

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন