

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই দারুণ পারফরম্যান্স দেখায় আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে তারা ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত থাকার গৌরব অর্জন করে।
শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয় তারা। ম্যাচটি ১১১ মিনিট পর্যন্ত ২-২ সমতায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি আত্মঘাতী গোলের সুবাদে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
এই টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক জোসিমা ভোজিনহা অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে মোট ১৮টি সেভ করেন। বিশ্বকাপে ৪০ বা তার বেশি বয়সে এর চেয়ে বেশি সেভের রেকর্ড আছে কেবল ইংল্যান্ডের পিটার শিলটন (১৯৯০ সালে ২৮টি) ও ইতালির দিনো জফের (১৯৮২ সালে ২৭টি)।
ভোজিনহার পরিবারের আর্থিক সংকট থাকায় স্টেডিয়ামে বসে বিশ্বকাপ দেখার সামর্থ্য ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি সম্পূর্ণ নিজের খরচে ভোজিনহার পরিবারের ৪ জন সদস্যের জন্য ভিআইপি টিকিটের ব্যবস্থা করেন। শুধু তাই নয়, কেপ ভার্দে থেকে ফাইনালের ভেন্যুতে আসা-যাওয়ার যাবতীয় ভ্রমণের খরচও মেসি নিজে বহন করেন।
মেসির উদ্যোগে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে পরিবারটি স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করে (যে ম্যাচে স্পেন ১-০ গোলে জয়ী হয়)।
চিলির সংবাদমাধ্যম লা তের্সেরা ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গোল ডটকম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ভোজিনহা নিজেই মেসির সাথে তার আবেগঘন কথোপকথনের বিষয়টি জানান।
ভোজিনহার বলেন,
"ম্যাচের পর আমি মেসির কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, 'তুমি অসাধারণ। তোমাকে নিয়ে তোমার দেশের মানুষের গর্ব করা উচিত।' লিওনেল মেসির মতো একজনের কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার জন্য অবিশ্বাস্য একটি মুহূর্ত ছিল।"
কথা শেষে ভোজিনহা স্মারক হিসেবে মেসির জার্সি চান। মেসি তাকে আশ্বাস দেন যে, ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকার শেষ করে টানেলে তিনি নিজের জার্সিটি তাকে দিয়ে দেবেন।
সাংবাদিক ইয়ানিনা লাতোরের বরাতে আরও জানা যায়, ফাইনাল ম্যাচের আগে মেসি এমন বেশ কিছু মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে বিনামূল্যে টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন, যাদের টিকিট কেনার সামর্থ্য ছিল না।