

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে অনলাইনে পিটিশন শুরু হওয়ার পর এবার পাল্টা আরেকটি পিটিশন চালু হয়েছে। এতে বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ পিটিশনে ইতোমধ্যে ২ কোটি ৩৩ লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্পর্শ করার কাছাকাছিও পৌঁছে গেছে।
বিভিন্ন ইউরোপীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ‘Argentina Out’ শিরোনামের ওই অনলাইন পিটিশনে বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশের ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জন ডিজিটাল স্বাক্ষর করেছেন। শুরুতে আয়োজকদের লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। তবে বিশ্বকাপজুড়ে বিতর্ক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিটিশনটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বাক্ষর পাওয়া পিটিশন হিসেবে ‘জুবিলি ২০০০’ আন্দোলনের আবেদনকে ধরা হয়। ওই পিটিশনে ২ কোটি ৪৩ লাখ ১৯ হাজার ১৮১ জন স্বাক্ষর করেছিলেন। সে হিসাবে আর্জেন্টিনাবিরোধী এই পিটিশনটি রেকর্ড স্পর্শের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তা অতিক্রম করতে পারেনি।
ইউরোপের একাধিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি রেফারিং, খেলোয়াড়দের আচরণ এবং প্রতিপক্ষের সঙ্গে একাধিক উত্তপ্ত ঘটনার কারণে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষক অভিযোগ করেন, ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এসব অভিযোগকে সামনে রেখেই পিটিশনটি চালু করা হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘যদি আগেই বিজয়ী ঠিক করা থাকে, তাহলে অন্য দলগুলো কেন বিশ্বকাপে খেলবে? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিন এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করুন।’
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার হারের পরও বিতর্ক থামেনি। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।
প্রতিবেদনে হয়, ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো প্যারেদেস স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান এবং গাভির সঙ্গেও অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। এ ছাড়া ম্যাচ চলাকালে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের দায়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখেন। সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে ফেলে আর্জেন্টিনা।
এসব ঘটনার পর অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষরের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে থাকে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।