


আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের প্রভাবে বেড়ে উঠেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম, ত্যাগ ও সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা আমাকে দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রাণিত করেছে। বহু বছরের প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের এই সাফল্য শুধু একটি রাজনৈতিক দলের অর্জন নয় এটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের গণমানুষের আকাঙক্ষার প্রতিফলন।
২১৩ আসনে বিজয়ের মাধ্যমে আগামী নেতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে এবং প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ আরও সুদৃঢ় হবে। তাঁদের কল্পিত সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ সোনার বাংলা গঠনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় মুহূর্ত। আমার মতো অসংখ্য জাতীয়তাবাদী কর্মীর কাছে এই অর্জন তাঁদের আদর্শ ও সংগ্রামের শক্তিশালী প্রতিফলন। এই সরকার শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও পরিশ্রমে গড়ে ওঠা দলের প্রতিনিধিত্ব করে, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
রাষ্ট্র পরিচালনা বা নীতিনির্ধারণ বিষয়ে নিজেকে বিশেষজ্ঞ দাবি করি না। তবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও কল্যাণের চিন্তা থেকে, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি সরকারের প্রতি কিছু পরিকল্পনার মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আমার বিশ্বাস, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত সোনার বাংলা গঠনের স্বপ্ন আরও বাস্তবসম্মত হবে। দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার কার্যক্রম চালু করা গেলে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের নতুন ধারা সৃষ্টি হবে। এতে শুধু একটি দলের সাফল্য নয়, বরং সকল দেশপ্রেমী বাঙালির সম্মিলিত অর্জন হিসেবে জাতির অগ্রযাত্রা আরও শক্তিশালী হবে ইনশাআল্লাহ।
আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: সমস্যা: রাজধানীসহ জেলা-বিভাগীয় শহর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নানা কারণে মভজাস্ট, মুভমেন্ট ও আন্দোলনের ফলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং নতুন দল-গঠনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবিত সমাধান: এসব স্থানে মভজাস্ট, মুভমেন্ট, আন্দোলন ও মাইক নিয়ে বসে পড়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
কারণ: রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হবে, নতুন দল গঠন রোধ হবে, স্থিতিশীলতা আসবে: উন্নয়নের পথ সহজ হবে এবং জনবিশ্বাস বাড়বে। বাস্তবায়নের উপায়: দাবী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লিখিতভাবে ও আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ রাখা; জরুরি আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি, কঠোর নজরদারি, পুলিশ-প্রশাসনিক বাহিনী মোতায়েন এবং জরুরি ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়ন।
খাদ্য ও ওষুধে ভেজাল: সমস্যা: মানুষ, পশুপাখি ও মৎস্যসহ সকল স্তরের খাবার ও ওষুধে ভেজালের কারণে কঠিন রোগ, মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুর সংকট চলছে। প্রস্তাবিত সমাধান: কঠোর আইন প্রণয়ন, ভেজাল বিক্রিতে কঠোর শাস্তি, ফ্যাক্টরি মালিকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, সারাজীবন ব্যবসা নিষিদ্ধ: মৃত্যু ঘটালে ফাঁসি এবং গোপন ফ্যাক্টরি ধ্বংস।
কারণ: মানুষ নিরাপদ খাদ্য ও ঔষধ চায় এবং কঠিন রোগ থেকে মুক্তি চায়; এতে জনস্বাস্থ্য রক্ষা হবে, অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ হবে এবং সরকারের প্রতি জনবিশ্বাস বাড়বে। বাস্তবায়নের উপায়: নতুন আইন, টাস্কফোর্স গঠন, ডিজিটাল মনিটরিং, মাস-লেভেল অভিযান (চলমান), জনসচেতনতা ও পুরস্কার।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পাবলিক টয়লেট: সমস্যা: থানা শহর থেকে বিভাগীয় শহর পর্যন্ত রাস্তাঘাট, আবাসিক অলি-গলি ও বাস/রেল/ঘাট স্টপে ময়লা ফেলার প্রবণতা; নির্দিষ্ট ব্যবস্থার অভাব এবং পাবলিক টয়লেটের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি। প্রস্তাবিত সমাধান: বিশ্বমানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি চালু: নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে ময়লা ফেলা নিষিদ্ধ: বাস/রেল/ঘাট স্টপে বিশ্বমানের টয়লেট স্থাপন: অনিয়মে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা, জরিমানা ও শারীরিক শাস্তি: ময়লা শক্তিতে রূপান্তরের প্রযুক্তি চালু।
কারণ: শহর ও আবাসিক এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বাড়বে, পরিবেশ সুরক্ষিত হবে, জনস্বাস্থ্য উন্নত হবে এবং সরকারের প্রতি জনবিশ্বাস বাড়বে। বাস্তবায়নের উপায়: স্থানীয় সরকার উদ্যোগ, সাইনবোর্ড, CCTV নজরদারি, দৈনিক ফাইনিং টিম, ডিজিটাল অভিযান, জনসচেতনতা ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ (চলমান)।
জেলা সদর হাসপাতালের দুরবস্থা: সমস্যা: ৬৪টি জেলা সদর হাসপাতাল অপ্রস্তুত, জরাজীর্ণ, অবহেলিত ও অপরিষ্কার; সরঞ্জাম ও ডাক্তারের অভাব এবং রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি। প্রস্তাবিত সমাধান: সকল হাসপাতাল সর্বোচ্চ সুবিধাসম্পন্ন করা-আধুনিক সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত ডাক্তার ও উন্নত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে বেসরকারি হাসপাতালের চেয়েও উন্নত বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান।
কারণ: সবার জন্য হেলথকার্ডসহ সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হবে, মৃত্যুহার কমবে, জনকল্যাণ বাড়বে, রাজধানীর ওপর চাপ কমবে এবং জনবিশ্বাস বাড়বে। বাস্তবায়নের উপায়: বাজেট বরাদ্দ, টেন্ডারের মাধ্যমে সরঞ্জাম ক্রয়, ডাক্তার নিয়োগ, জরুরি ঘোষণাপত্র, মাসিক অভিযান, জনসচেতনতা ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ (চলমান)।
শিক্ষা অবকাঠামো ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: সমস্যা: শিক্ষা-গবেষণাখাতে অপর্যাপ্ত বাজেট এবং স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের টয়লেট-বাথরুম ও রান্নাঘর জরাজীর্ণ, অপরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণহীন। প্রস্তাবিত সমাধান: শিক্ষা গবেষণায় সর্বোচ্চ বাজেট; নারী পুরুষ পৃথকভাবে পরিচ্ছন্ন টয়লেট বাথরুম ও নিরাপদ রান্নাঘর স্থাপন (নিজ ঘরের চেয়েও ভালো) এবং অবিরত রক্ষণাবেক্ষণ নীতি। কারণ: বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণা হবে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও স্বচ্ছন্দতা বাড়বে, স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে, ড্রপআউট কমবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে। বাস্তবায়নের উপায়: শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্প, বাজেট বরাদ্দ, মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ টিম, জরুরি ঘোষণাপত্র, মাসিক অভিযান ও জনসচেতনতা (চলমান)।
দ্রব্যমূল্যের অস্থিরতা: সমস্যা: সকল পণ্যের বাজারমূল্য অস্থির ও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে; সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে এবং গ্রাম-শহরভেদে দামের পার্থক্য থাকলেও সরকার নির্ধারিত নয়। প্রস্তাবিত সমাধান: সরকার কর্তৃক সুনির্দিষ্ট বাজারমূল্য ঘোষণা (গ্রাম-শহর ও ক্যাটাগরি অনুযায়ী পৃথক): শক্তিশালী নীতিমালা যাতে সরকার ছাড়া কেউ মূল্য পরিবর্তন করতে না পারে।
কারণ: দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, সাধারণ মানুষের অর্থসাশ্রয়, সিন্ডিকেট ধ্বংস, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনবিশ্বাস বৃদ্ধি। বাস্তবায়নের উপায়: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে শক্তিশালী কমিটি, সাপ্তাহিক মূল্য ঘোষণা (অ্যাপ/বোর্ডে), লঙ্ঘনে জরিমানা-কারাদণ্ড, ডিজিটাল মনিটরিং, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনসচেতনতা (চলমান)।
সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো: সমস্যা: সরকারি কর্মচারীদের বেতন কম হওয়ায় সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতা এবং আয়কর সংগ্রহ কম। প্রস্তাবিত সমাধান: ২০২৫ সালের প্রস্তাবিত পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন; আয়করযোগ্য জনসংখ্যা ও রাজস্ব বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি।
কারণ: ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, সামাজিক স্থিতি উন্নত হবে, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, সরকারি রাজস্ব ও জনবিশ্বাস বাড়বে। বাস্তবায়নের উপায়: জাতীয় বেতন কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর, সরকারি গেজেট প্রকাশ, বাজেট বরাদ্দ, আয়কর সংগ্রহ অটোমেশন এবং ২০২৬ সালে বাস্তবায়ন।
জলাবদ্ধতা ও পানি ব্যবস্থাপনা: সমস্যা: জলাবদ্ধতা ও মৎস্য-কৃষি সমস্যা-বর্ষায় অতিরিক্ত পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব। প্রস্তাবিত সমাধান: খাল কাটা কর্মসূচি, নদী ও খাল খনন, ল্যান্ডইউজ কনফ্লিক্ট দূর করে সারা বছর পানি ব্যবস্থাপনা।
কারণ: কৃষি-মৎস্য উৎপাদন বাড়বে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, বন্যা-খরা প্রতিরোধ হবে এবং জনবিশ্বাস বাড়বে। বাস্তবায়নের উপায়: পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্প, খাল/নদী খনন, বাজেট বরাদ্দ, মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ টিম, জরুরি ঘোষণাপত্র, মাসিক অভিযান ও জনসচেতনতা (চলমান)।
শিশু-কিশোর ও ডিজিটাল আসক্তি: সমস্যা: অসুস্থ সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিভাইস অ্যাপের অবাধ ব্যবহার শিশু কিশোরদের ক্ষতি করছে। প্রস্তাবিত সমাধান: ১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধসহ বয়সভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এবং শক্তিশালী ICT আইন।
কারণ: শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা, আসক্তি হ্রাস, সাইবার ক্রাইম কমবে এবং পরিবার সমাজ সুস্থ থাকবে। বাস্তবায়নের উপায়: ICT অধিদপ্তরের নিয়ম, অ্যাপ স্টোরে বয়স যাচাই, লঙ্ঘনে জরিমানা, রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি ঘোষণাপত্র, মাসিক অভিযান ও জনসচেতনতা (চলমান)।
সামাজিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন: সমস্যা: সামাজিক নিরাপত্তা দুর্বল মহিলা হয়রানি ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, হত্যা লুণ্ঠন, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রস্তাবিত সমাধান: সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড, কঠোর আইন ও তাৎক্ষণিক শাস্তি।
কারণ: নারী-শিশু সুরক্ষা বাড়বে, অপরাধ কমবে, সমাজ শান্তিপূর্ণ হবে এবং সরকারের প্রতি জনবিশ্বাস বাড়বে। বাস্তবায়নের উপায়: নতুন আইন (৯০ দিনে বিচার), সামাজিক নিরাপত্তা কার্ড বিতরণ, RAB টাস্কফোর্স, কার্ডে হটলাইন নম্বর, জরুরি ঘোষণাপত্র, মাসিক অভিযান, জনসচেতনতা ও জরুরি বাস্তবায়ন।
লেখক: প্রফেসর ড. মো. মীর মোশাররফ হোসেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় যশোর-৭৪০৮ বাংলাদেশ। ইমেইল: [email protected]
মন্তব্য করুন