

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দেশে সাম্প্রতিক সময়ের নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে বিগত দেড় যুগের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের হঠাৎ অস্থিরতায় দায়ী। জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিগত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ গত ৯ আগস্টে ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ঘাটতি হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চাপাইনবয়াবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এই ঐতিহাসিক ঘাটতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, নিছক কথামালার আড়ালে সত্য লুকানোর কোনো সুযোগ নেই। জনগণের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও সাময়িক কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, কারিগরি সমস্যা সমাধান ও সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটবে।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসভিত্তিক ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও তার জন্য দৈনিক ১৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলে মোট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ২৩০০ থেকে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সব গ্যাস সরবরাহ করলে শিল্প খাত ও বাসাবাড়ির গ্যাস সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ফলে সার্বিক অর্থনীতি রক্ষায় শিল্প, বিদ্যুৎ ও গৃহস্থালি খাতের মধ্যে বাধ্য হয়ে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
কারিগরি বিপর্যয় ও চুক্তির ঘাটতির তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, পায়রা ও মাতাবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট বর্তমানে কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আদানির সঙ্গে সম্পাদিত আগের চুক্তি অনুযায়ী ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও পাওয়া যাচ্ছে দিনে ৯০০ ও রাতে ১১০০ মেগাওয়াট। এর ওপর গত ২১ জুলাই আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের দুটি এফএসআরইউ-এর একটি নষ্ট হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে, যার প্রভাব এসে পড়ে বিদ্যুৎ খাতে। তবে বর্তমানে এই সংকটের ৮৮ শতাংশই সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে আজকের এই কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতো না। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে দ্রুততম সময়ে নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ২০২৮ সালের মধ্যে এই এফএসআরইউ চালু করা সম্ভব হবে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির লক্ষণীয় উন্নতি ঘটবে।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেন আগস্ট মাসের কষ্টের পুনরাবৃত্তি সেপ্টেম্বর মাসে না ঘটে। সরকারের নেওয়া নতুন রূপটপ সোলার পলিসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের সমন্বিত বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ফলে আগামী গ্রীষ্মে দেশের মানুষকে আর এই বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কষ্টে ভুগতে হবে না।


